সমাজসেবায় সৃজন হয়নি কাঙ্ক্ষিত পদ, কর্মীদের ক্ষোভ
ফাইল ছবি
সমাজসেবা অধিদপ্তর সরাসরি জনগণের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও চাহিদা মোতাবেক জনবল না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সমাজসেবা ক্যাডার পদ সৃজনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বা নির্দেশনার পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চাহিদার বিপরীতে খুবই সীমিতসংখ্যক পদ সৃজন হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এবং কর্মকর্তাদের দাবির মুখে গত বছর সমাজসেবা অধিদপ্তরের জনবলের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ৫৬৯টি পদ সৃজনে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৮২০টি পদের প্রস্তাবনা দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে চলতি মাসে ২০২টি পদ সৃজনের অনুমোদন দেয় অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অধিশাখা।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির আলোকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সদর কার্যালয় ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়নের নিমিত্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২০২টি পদ অস্থায়ীভাবে রাজস্বখাতে সৃজনে অর্থবিভাগের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের কয়েকটি ধাপ রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানাতে পারবে।
জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সদর কার্যালয়ে ১৩টি, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ৩৯টি, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ৩২টি, প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসে ১২টি, সরকারি শিশু পরিবারে (৬১টি ইউনিট) ২১টি, সরকারি শিশু পরিবারে (২৪টি ইউনিট) ১০টি, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (৩ ইউনিট) ৪টি, আইসিটিতে ১৭টি, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (৮টি ইউনিট) ১৫টি, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে ৩৯টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজা আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে চাহিদার বিপরীতে এত কমসংখ্যক পদ সৃজনে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তাদের দাবি, তুলনামূলকভাবে তারা অনেক জনকল্যাণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সর্বদা উপেক্ষিত। এ বিষয়ে তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৯৮৪ সালেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বশেষ জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়। তৎকালীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মসূচির ব্যাপ্তি অনুসারে সেই জনবল কাঠামো প্রস্তুত করা হয়। তবে ওই সময়ের জন্য তখনকার জনবল কাঠামো যৌক্তিক থাকলেও আজ এ অধিদপ্তর অর্ধশতাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তাই তিন যুগ পুরোনো জনবল কাঠামো দিয়ে এত কর্মসূচি বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেই পুরোনো আমলের জনবল কাঠামোর অর্ধেক পদই শূন্য রয়েছে বলে জানান তারা।
আইএইচআর/ইএ/জেআইএম