দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বাপা ফুডপ্রো এক্সপো
বিদেশি দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রাণ-আরএফএলের সিইও আহসান খান চৌধুরী/ছবি: মাহবুব আলম
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে বাপা ফুডপ্রো এক্সপোতে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন ম্যাফিউ। তিনি ফুড প্রসেসিংয়ের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশের বিরিয়ানি ও নানান ধরনের প্রসেসিং ফুড তার বেশি পছন্দ। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া ফুডপ্রো এক্সপোতে ঘুরে ঘুরে সেসব খাবার দেখছিলেন তিনি।
ম্যাফিউ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশর সব ধরনের খাবার আমার দারুণ পছন্দ। বিভিন্ন স্পাইসি ফুড, ড্রিংকস ও জুস দারুণ লাগে। তবে সবকিছুকে ছাড়িয়ে পুরান ঢাকার বিরিয়ানির স্বাদ আমাকে পাগল করে।’
মেলায় ঘুরতে দেখা যায় আরেক বিদেশিকেও। তিনি দেশি খাবারের স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। কথা বলে জানা গেলো তিনি ইতালির মিলান থেকে এখানে এসেছেন। তার নাম মাইকেল স্টিমলস। ব্যবসায়িক কাজে বছরের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশ ও ভারতে অবস্থান করেন তিনি। মনের অজান্তেই কখন যে তিনি বাংলাদেশের খাবারের ভক্ত হয়ে গেছেন, তা নিজেও জানেন না। এবারের এক্সপোতে ফুড প্রসেসিং মেশিনারিজের প্রদর্শন চলছে। সেখানে কাজে যুক্ত তিনি।

মাইকেল স্টিমলস জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সব ধরনের ফ্রোজেন ফুড আমি দারুণ উপভোগ করি। চিকেন রোল, সমুচা, সিঙ্গাড়া ফেভারিট। জুস ও ড্রিংকস আইটেমও অনেক ভালো লাগে।’
আরও পড়ুন: পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য পৌঁছে যাবে
এ তো গেলো বিদেশিদের কথা। দেশি দর্শনার্থীও কম নয়। উদ্বোধনের পর বিকেলে মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। এসময় আইসিসিবির বিভিন্ন হল দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।

মহামারি করোনাভাইরাসের সংকট কাটিয়ে অষ্টমবারের মতো চলছে তিন দিনব্যাপী বাপা ফুডপ্রো এক্সপো। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) এক্সপোর উদ্বোধন করেন। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া এ এক্সপো চলবে আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য এ এক্সপো উন্মুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: বাপা ফুডপ্রো এক্সপোতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মিলনমেলা
শুক্রবার বিকেলে মেলা ঘুরে দেখা যায়, আইসিসিবি হল ১ গুলনকশায় রকমারি খাদ্যের সমাহার। দেশীয় নানা কোম্পানির খাবারের স্বাদ নিতে ও জানতে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড়। মেলায় ১৭ দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বসেছে ২০০টি স্টল, যার ৯০ শতাংশই বিদেশি। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণসহ বিভিন্ন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ অনেক কোম্পানির স্টল রয়েছে।

বাংলাদেশের অন্যতম খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’। বাপা ফুডপ্রো এক্সপোতে প্রাণের জুস আইটেম, বিস্কুট, ড্রিংকস, স্পাইসি ফুড, নুডলস, চানাচুর, চকলেট, ওয়েফার, পপকর্নসহ নানান ধরনের খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। রয়েছে প্রাণ টোস্ট, প্রাণ ড্রাই কেকও।
মেলার স্টলে বিভিন্ন প্রকারের গুঁড়া মশলা, সরিষার তেল, মিস্টার নুডলস, সস, পটেটো ক্র্যাকার্স, চানাচুর, মুড়ি, ঝালমুড়ি, ক্যান্ডি, বাবল গাম, ললিপপ, সস, জেলি ও সুগন্ধি চালও রয়েছে। বিশেষ করে ‘প্রাণ লিচি ড্রিংকস’ বিদেশিদের মন কেড়েছে। রকমারি খাদ্যের টানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন দর্শনার্থীরা।

রাজধানীর মালিবাগের মধুবাগ থেকে এসেছেন আরিফুর রহমান ও মনিরা রহমান। সঙ্গে তিন বছরের কন্যাসন্তানকেও নিয়ে এসেছেন তারা।
আরও পড়ুন>> এখন দেশ নয়, বাজার দখল করতে হয়: পরিকল্পনামন্ত্রী
আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, খাবারের জন্যই আমাদের ব্যস্ততা-পরিশ্রম ও চাকরি সবকিছু। সুতরাং বেটার (ভালো) খাবার গ্রহণ করা সবার উচিত। এর আগেও বাপা ফুডপ্রো এক্সপোতে অংশ নিয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অংশ নিয়েছি। নতুন কী ধরনের খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, সেটা জানতেই মূলত এখানে আসা।’

বাপা ফুডপ্রো এক্সপোতে অংশ নিয়েছে স্বদেশ বিডি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের রেগুলেশন অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মানের হাইজিনিক পরিবেশে স্বদেশ বিডির আলট্রা জেট ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন, মোড়কজাত ও সরবরাহ করে থাকে। তাদের নানা ধরনের মসলা, স্পাইসি আইটেম, মুড়ি, চানাচুর, সেমাই, কেক, টোস্ট, ড্রাই কেক, অ্যালমন্ড ড্রাই কেক, লাচ্চা সেমাই দেশের গন্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড মেলার আয়োজন করছে। প্রথম দিনে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয় মেলা প্রাঙ্গণ।
আরও পড়ুন: বাপা ফুডপ্রো এক্সপো শুরু শুক্রবার, থাকছে ১৭ দেশের ২০০ স্টল
এতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প আরও গতিশীল হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক কৃষির উপকার হবে, উপকৃত হবেন কৃষকরাও। বাড়বে রপ্তানি। একইসঙ্গে ভোক্তারা সাশ্রয়মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন।

বাপার জন্মলগ্ন থেকেই ফুড প্রসেসিং সেক্টরের উন্নয়নের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাপার মূল লক্ষ্যই হলো এ সেক্টরের ক্রমবর্ধমান বিকাশ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
১৩ সদস্য নিয়ে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে বাপা। বর্তমানে বাপার সদস্য সংখ্যা তিন শতাধিক। যারা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্বের ১৪৪ দেশে রপ্তানি করছে।
এমওএস/এএএইচ/এএসএম