রিজার্ভ লুটের তদন্ত ‘যথেষ্ট’ এগিয়েছে
রিজার্ভ লুটের তদন্ত ‘যথেষ্ট’ এগিয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে তেমন কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আইনানুগ বিষয়গুলোকে ‘অ্যাসেস’ করার জন্য আমাদের তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত দুইদিন আমরা সব মিডিয়াকে প্রবেশ করতে দিতে পারিনি। ব্যাংকের যে কোন বিভাগে যাওয়ার যে সুযোগ ছিল সেটা দিতে পারিনি। আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিচতলায় একটি কমিউনিকেশন সেন্টার করবো। তার আগ পর্যন্ত প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে এবং নির্দিষ্ট রেজিস্টারে বিস্তারিত জানিয়ে যেতে পারবেন।
ইলেকট্রিনক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যামেরা নিয়ে আগাম অনুমোদন ব্যতিরেকে যেতে পারবেন না। তবে ক্যামেরা রেখে সাংবাদিক যেতে পারবেন। কারো বক্তব্যের প্রয়োজন হলে ব্যাংকের মুখপাত্র বা ঊর্ধ্বতনের পূর্বানুমতি লাগবে, তখন ক্যামেরা নিয়ে যেতে পারবে। সিকিউরিটি কনসার্নের উপরে ক্যামেরাকে আমরা আলাদা রাখতে চাই।
ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশে ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা থেকে ৮শ কোটি টাকা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি ধামা চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও ফিলিপাইনের একটি সংবাদ মাধ্যমে তা ফাঁস করে দেয়। মূলত ফিলিপাইনের কয়েকটি ক্যাসিনোর মাধ্যমে এ টাকা পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, চুরি যাওয়া অর্থের কিছু উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইনের অর্থ পাচারবিরোধী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে বাকি অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির এই ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ ছেড়েছেন ড. আতিউর রহমান। এদিকে রিজার্ভ লুটের এই ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) শাখা ব্যবস্থাপক মাইয়া স্যানটোস দেগুইতোকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে দাবি তার।
এ ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।
এসআই/এনএফ/এবিএস