ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

ফের পতনে শেয়ারবাজার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:০৭ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২৩

এক কার্যদিবস কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের শেয়ারবাজারে আবার দরপতন হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকয়টি মূল্যসূচক কমেছে। পাশাপাশি দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে দুই কার্যদিবসেই দরপতন হলো।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ন করেছে বা এর জন্য দায়ী কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বিষয়টি জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এবং বিরোধী দল।

যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানোর পর শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধনের আতঙ্ক দেখা দেয়। এতে দরপতনের মধ্যে পড়ে শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহজুড়ে দরপতন হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। তবে দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার বিমা খাতের ওপর ভর করে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা পায় শেয়ারবাজার।

এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকয়টি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতের ওপরও। ফলে প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে শতাধিক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায়। এতে সূচকের বড় উত্থান হয়।

আরও পড়ুন: ভিসানীতির প্রভাবে শেয়ারবাজারে আতঙ্ক কাটছেই না

কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই একের পর এক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম কমতে থাকে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতের ওপরও। ফলে লেনদেনের সময় গাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে দাম কমার তালিকা।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৯টির এবং ১৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিমা কোম্পানি রয়েছে মাত্র দুইটি। বিপরীতে দাম কমার তালিকায় বিমা কোম্পানি আছে ৪৬টি।

বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকয়টি মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪৬৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিমের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩০ কোটি ৮২ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনালী পেপারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার। ২২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশবন্ধু পলিমার।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, ফু-ওয়াং ফুড, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন অংশ নেওয়া ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৩টির এবং ৭০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এমএএস/কেএসআর/এমএস