গ্র্যাজুয়েট না বাড়িয়ে গুণগত মানে নজর দিন: ইউজিসি চেয়ারম্যান
শুধু গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা না বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর।
তিনি বলেন, উচ্চতর গবেষণা ছাড়া কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে শিক্ষকদের বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা না বাড়িয়ে গুণগত মানসম্পন্ন ও দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে নজর দিন।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ষষ্ঠ ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইলেকট্রিক্যাল ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ইআইসিটি ২০২৩)’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) অনুষদ তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে কুয়েটের টিচার্স ক্লাবে সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক আলমগীর বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে ফিজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল ও সাইবার বিষয়গুলো একীভূত করে বর্তমান যুগের সমস্যা সমাধানের উপায় বের করতে হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের যুগের চাহিদা অনুাযায়ী গ্র্যাজুয়েট ও পেশাজীবী তৈরি করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে শিক্ষকদের প্রো-অ্যাক্টিভ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের সংস্কৃতি চালু করতে হবে। গবেষণা পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা নিতে পারেন।
সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ইইই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মনির হোসেন বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে বিশ্বের ১৩টি দেশ থেকে ৪৭২টি টেকনিক্যাল পেপার থেকে বাছাইকৃত ১৩৮টি টেকনিক্যাল পেপার ২৭টি টেকনিক্যাল সেশনে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া কনফারেন্সে আটটি কি-নোট সেশন ও একটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমেরিকা, বেলজিয়াম, ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৩০০ গবেষক, শিক্ষক, স্বনামধন্য প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদসহ অন্যরা অংশ নেন।
এএএইচ/বিএ