তফসিলের প্রথম বিধিই মানলো না মিশা-জায়েদ কমিটি
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঘোষণা হয়েছে নির্বাচনী তফসিল। এর মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিল্পীরা। গেল দুই মেয়াদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবারেও মিশা-জায়েদ প্যানেল থাকছে নির্বাচনে। তবে তাদের প্যানেলে অনেক মুখের যোগ বিয়োগ হচ্ছে। আরেক প্যানেলের নেতৃত্বে থাকছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন ও অভিনেত্রী নিপুণ।
শিল্পী সমিতির নির্বাচন হবে ২৮ জানুয়ারি। সে দিনটিকে ঘিরে জমজমাট এফডিসির আঙিনা ও চলচ্চিত্রপাড়া। নানা সমালোচনা ও বিতর্কও উঠছে বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে থাকা মিশা-জায়েদের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে ২৪০ জন সদস্যের চাঁদা নিয়ে রশিদ না দেয়া এবং সেই চাঁদা ফেরত নিতে সদস্যদের নির্দেশ দেয়ার প্রেক্ষিতে থানায় জিডিও হয়েছে এই নেতৃত্বের কমিটির নামে।
এবার আলোচনায় এলো আরও একটি বিতর্ক। শিল্পী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে এরইমধ্যে সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদ জায়েদ খান স্বাক্ষরিত তফসিল ঘোষণা হয়েছে। সেই তফসিলের বিধিমালার প্রথমটিই মানতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান কমিটি।
১ নম্বর বিধিতে বলা আছে ৮ জানুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। কিন্তু গতকাল শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে কোনো ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। অনেকে সদস্যই ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজতে গিয়ে কোনো তালিকাই না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বর্তমান কমিটির এ ব্যর্থতার জন্য নিন্দাও জানান।
এদিকে শিল্পী সমিতির কার্যকরী কমিটির কয়েকজন জানান, খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে দেরি হয়ে গেল।
তবে অনেক শিল্পীরাই এর বিরোধিতা করে বলেন, ‘ভোটার তালিকা কাটছাট করা নিয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান নানা নাটক করে যাচ্ছেন গেল কয়েক বছর ধরে। এরইমধ্যে ১৮৪ জন হাইকোর্ট থেকে সদস্যপদের আদেশ নিয়ে এসেছেন। এই ১৮৪ জনকে অকারণেই সমিতির সদস্যপদ নিয়ে লড়াই করতে হয়েছে শুধুমাত্র বর্তমান কমিটির প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্য। তারা নিজেদের সমর্থিত লোকজন ছাড়া আর কাউকেই শিল্পী সমিতির সদস্য রাখতে চায় না। এসব টালবাহানার কারণেই এখনও ভোটার খসড়া তালিকা প্রকাশ করছে না।’
ভোটার তালিকা সংশোধনের শেষ দিন ছিলো আজ ৯ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা। সেখান থেকে সংশোধন ও যাচাই বাছাই শেষে আগামীকাল ১০ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় প্রকাশ করার কথা রয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
প্রসঙ্গত, এবার নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অভিনেতা পীরজাদা হারুন। তার সঙ্গে থাকবেন বিএইচ নিশান ও বজলুর রাশীদ চৌধুরী। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের ভূমিকায় দেখা যাবে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানকে। এই বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে মোহাম্মদ হোসেন জেমী ও মোহাম্মদ হোসেনকে।
এলএ/এমএস