ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিনোদন

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ককে নিয়ে চলচ্চিত্র

প্রকাশিত: ১০:৩৯ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

বাংলাদেশ ফুটবলের জীবন্ত কিংবদিন্ত তিনি। তার হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশ ফুটবলের নেতৃত্ব শুরু হয়েছিল। তিনি অতি পরিচিত নাম জাকারিয়া পিন্টু। দেশীয় ফুটবল অঙ্গনে তিনি ফুটবলের রাজা বলেই সমাদৃত।

এবার সেলুলয়েডের ফিতায় উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে এই ফুটবলারের জীবন ও কীর্তি। উঠে আসবে মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে অস্ত্রের বাইরেও যে কিছু যুদ্ধ হয়েছিলো তারই গল্প। ‘ফুটবলের রাজা’ শিরোনামে ছবিটি দর্পণ মুভিজের প্রযোজনায় পরিচালনা করবেন বীরজান। পরিচালক জানালেন, বাংলাদেশের ফুটবলারের জীবন কাহিনি নিয়ে এটিই হবে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র।

সাগর আহমেদ শাহিন নিবেদিত এ চলচ্চিত্রে ‘জাকারিয়া পিন্টু’র চরিত্রে অভিনয় করবেন আবদুল্লাহ আল মামুন নয়ন। চলচ্চিত্রটি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও জার্মান ভাষায় ডাবিং করা হবে। এর শুটিং হবে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া ও জার্মানিতে।

আগামীকাল রোববার দুপুর ১২ টায় ফুটবলের রাজা চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠিত হবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড মিলনায়তনে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক খান ইনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডাইরেক্টর ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন ভুঁইয়া ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু।

১৯৫৭ সালে প্রথম ইস্ট অ্যান্ড ক্লাবে যোগদানের মাধ্যমে ফুটবলের বড় পরিসরে প্রবেশ করেন জাকারিয়া পিন্টু। ১৯৫৯ সালে ওয়ান্ডারাস ক্লাবের হয়ে খেলেন। ১৯৬১ সালে চলে আসেন মোহামেডানে। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ক্লাবের। আর ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন সাহসিকতার সাথে।

প্রসঙ্গত, দেশের সেরা ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ ফুটবল দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় করে গেছে অনন্য এক যুদ্ধ। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে দেশের ফুটবলের দামি তারকারা অপার এক দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে গড়ে তুলেছিলেন জনমত। যুদ্ধের সময় এ দলটি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় খেলেছিল ১৬টি ম্যাচ। জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা, নওশের, লালু, কায়কোবাদ, আশরাফ, এনায়েত, সালাউদ্দিন, আইনুলসহ ৩১ জন তারকা ফুটবলার। যাদের বেশির ভাগই স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের সেরা ফুটবলার হিসেবে ছিলেন সুপরিচিত। দলটির ম্যানেজার ছিলেন তানভীর মাজহারুল ইসলাম তান্না। সাবেক জাতীয় কোচ আলী ইমাম ছিলেন দলটির অন্যতম সংগঠক।

তত্কালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠনের তাগিদে মুজিবনগরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় ফুটবলারদের। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিতে শুরু করেন ফুটবলাররা। আকাশবাণীতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কথা প্রচার হওয়ার পরপরই দেশসেরা ফুটবলাররা পাড়ি জমান মুজিবনগরে। এরপর ৩১ জন ফুটবলারকে নিয়ে গঠিত হয় স্বপ্নের সেই দল।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রথম ম্যাচটি হয় ২৫ জুলাই, কৃষ্ণনগরের নদীয়া স্টেডিয়ামে, নদীয়া জেলা একাদশের বিপক্ষে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি সোনার আখরেই লেখা থাকবে। কেননা এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামে ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা (তখন অবশ্য পতাকা ছিল সবুজের পটে লাল সূর্যের ভেতর সোনালি মানচিত্র)। এ পতাকার জন্যই তো খেলোয়াড়েরা নিজের সবটুকু উজাড় করে দেন সবুজ মাঠে। সেদিন নদীয়া জেলা একাদশের বিপক্ষের ঐতিহাসিক ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ২-২ গোলে।

বাংলাদেশ দল ও নদীয়া জেলা একাদশের শুভেচ্ছা পতাকা বিনিময় তখন খেলার ফলাফল মোটেও মুখ্য ছিল না। মুখ্য ছিল স্বাধীন দেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরা, বিশ্বকে নিজেদের মুক্তির বার্তা দেওয়া। সে ক্ষেত্রে শতভাগ সফলই হয়েছিলেন জাকারিয়া পিন্টুরা। কৃষ্ণনগরের মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ সেদিন আবেগঘন করে তুলেছিল সবাইকে। চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু সেদিন শপথ পড়িয়েছিল মুক্ত-স্বাধীন স্বদেশের।

তারই কিছু অংশ হয়তো এবার দেখা যাবে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায়। অনেকেই এই চমৎকার ভাবনাকে অভিনন্দিত করেছেন। তারা ‘ফুটবলের রাজা’ চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত সকলের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। এই ছবির মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্মের মানুষেরা মুক্তিযুদ্ধে ফুটবলারদের অবদানের কথাও জানতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

এলএ/আরআইপি