প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে দুই ঈদের নামাজ পড়তেন ‘মিয়া ভাই’
নায়ক ফারুকের পৈতৃক ভিটা
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণসোম গ্রামে ঢাকাই চলচ্চিত্রের মিয়া ভাই খ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন খান পাঠান ওরফে দুলুর পৈতৃক ভিটা। তবে চিত্র নায়ক ফারুক নামে অধিক পরিচিত ছিলেন তিনি। সেখানেই কেটেছে তার দুরন্ত শৈশব-কৈশোর।
মিয়া ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবশেষে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
আরও পড়ুন: আমাকে স্নেহে আগলে রেখেছিলেন ফারুক ভাই: শাকিব খান
নায়ক ফারুক ১৮ আগস্ট ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আজগার হোসেন পাঠান। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। নায়ক ফারুক ভালোবেসে ফারজানাকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান। কন্যা ফারিহা তাবাসসুম পাঠান ও পুত্র রওশন হোসেন। উত্তরায় নিজ বাসভবনে ফারুক বসবাস করতেন।
মিয়া ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে শুধু তার বাড়ি নয় দক্ষিণসোম গ্রামে রাজ্যের নীরবতা। সবাই বলছে, তিনি সুস্থ থাকলে প্রতি বছর দুটি ঈদে বাড়ি এসে সবার সাথে দেখা করেন। গরিব মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। এখন পুরো গ্রাম খা খা করছে।

দুপুরে সরেজমিনে দক্ষিণসোম গ্রামে মিয়া ভাইয়ের গ্রামের বাড়িতে দেখা যায়, পুরো বাড়ি নীরব, নিস্তব্ধ। বাড়িতে যারা আছেন তারা যেন একেকজন নির্বাক মানুষে পরিণত হয়েছেন। এর মাঝে কথা হয় বাড়িতে অবস্থান করা তার ভাগনে মোসাদ্দেক হোসেন কল্লোল পাঠানের সাথে।
আরও পড়ুন: বাবার কবরের পাশে শায়িত হবেন চিত্রনায়ক ফারুক
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার কিছু দিন আগে তিনি তার নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে বাড়িতে এসেছিলেন। এছাড়া তিনি সুস্থ থাকার সময় প্রতি বছর বাড়িতে এসে নিজ এলাকায় দুই ঈদের নামাজ পড়তেন এবং প্রতি রমজান মাসে বাড়িতে এসে এলাকার মানুষদের ইফতার করাতেন। তবে বিশেষ কোনো প্রয়োজন হলে তিনি বাড়িতে আসতেন।
চলচ্চিত্রের বাইরে ফারুক একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে গাজীপুরে অবস্থিত নিজের শিল্প প্রতিষ্ঠান ফারুক নিটিং ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
আব্দুর রহমান আরমান/এমএমএফ/জিকেএস