বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেলেন এক হাজার দরিদ্র রোগী
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) আয়োজিত ‘ক্যাম্পস কিডনি সপ্তাহ-২০১৬ টাঙ্গাইল’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী কিডনি স্ক্রিনিং ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে এক হাজার ৪০ জন দরিদ্র রোগী বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
গত ৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্যাম্পস কিডনি সপ্তাহ-২০১৬ টাঙ্গাইল’ এর উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক। শেষ হয় ৯ ডিসেম্বর। উক্ত ফ্রি কিডনি স্ক্রিনিং ক্যাম্পের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নির্ণয়, উচ্চ রক্তচাপ ও সুপ্ত কিডনি রোগ নির্ণয়ের জন্য সব রকম পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
দেশের শীর্ষস্থানীয় কিডনি বিশেষজ্ঞ এবং ক্যাম্পস এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদের তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাম্পস কিডনি সপ্তাহ-২০১৬ টাঙ্গাইল’ এর সমাপনী দিনে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘কিডনি রোগ ভয়াবহ কিন্তু প্রাতিরোধ যোগ্য’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মনোয়ারা বেগম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন।
প্রধান অতিথি বলেন, ক্যাম্পস এর মতো একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিরল। আমি এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসসরি সহযোগিতা করে থাকি। সরকারকে আমি অবশ্যই এসব প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য অনুরোধ করবো।
ক্যাম্পস এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং একই সাথে আলোচনা অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ক্যাম্পস আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী এই ‘ফ্রি কিডনি পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমে এক হাজার ৪০ জন (যাদের বয়স ৪০ বছরের উপরে) সাধারণ মানুষের কিডনি পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ মানুষের কিডনি সমস্যা পাওয়া যায়। কিন্তু তারা এর আগে কখনই জানতো না, যে তাদের দেহে সুপ্তাবস্থায় কিডনি রোগ বিদ্যমান।
অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, শুধু লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে ৬৮ শতাংশ মৃত্যু ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ধূমপান না করা।
তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পস এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কিডনি রোগের ব্যপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষকে সচেতন করা। কিডনি বিকল প্রতিরোধে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা ও সুস্থ জীবন ধারায় সবাইকে অভ্যস্ত করা।
অন্যান্য বক্তারা অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে এরকম মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এআরএস/জেআই