এখনো ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে তিন জেলা
দেশে ম্যালেরিয়া নির্মূলে সাফল্য আশাব্যঞ্জক হলেও বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি- এই তিন জেলায় এখনো ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বেশি। জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৯ হাজার ২৪৭ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ৯৩ শতাংশই এই তিন জেলার। বিশেষত সীমান্তবর্তী পাহাড়, বেশি বৃষ্টিপাত, বনাঞ্চলবেষ্টিত হওয়া, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সেবাদানজনিত সমস্যার কারণে এ ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এ ছাড়া দেশের ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে।
আগামীকাল ২৫ এপ্রিল ‘বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ম্যালেরিয়া নির্মূলে ভবিষ্যৎ করণীয়, ঝুঁকি মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ, সুপারিশ এবং ম্যালেরিয়া সম্পর্কিত বার্তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির রোগতত্ত্ববিদ ডা. মো. মশিকুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. মিয়া সাপাল, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজেস, ওয়াশ ও ডিএমসিসি কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজ (ম্যালেরিয়া) ও ওয়াশ কর্মসূচির প্রধান ডা. মোকতাদির কবির প্রমুখ।
ম্যালেরিয়া নির্মূল ও করণীয় সংক্রান্ত একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আকতারুজ্জামান।
উপস্থাপনায় বলা হয়, জনসচেতনতা এবং সরকারের সহযোগিতায় ব্র্যাকসহ অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। ২০১৪ সালে যেখানে ম্যালেরিয়ায় মারা যান ৪৫ জন, ২০১৫ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯ জনে। ২০১৬ সালে এই রোগে ১৭ জন মারা গেলেও পরের বছর মারা গেছেন ১৩ জন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা ম্যালেরিয়া। দেশের ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে। জেলাগুলো হলো- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং কুড়িগ্রাম।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়ামুক্ত বাংলাদেশ। এ জন্য ২০২১ সালের মধ্যে আটটি ম্যালেরিয়া প্রাদুর্ভাব জেলায় ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করা এবং ৫১টি জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণকারীদের ম্যালেরিয়ার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে আমরা ইতোমধ্যে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছি। এর পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবেলায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মাঝে তিন লাখ ৩৩ হাজার মশারি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি।
ড. মো. আকরামুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি সংস্থা হিসেবে ব্র্যাক দৃঢ়তার সঙ্গে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।
মূল প্রবন্ধে ম্যালেরিয়া নির্মূলকরণে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়। এগুলো হলো- দুর্গম এলাকায় দক্ষ চিকিৎসকের স্বল্পতা ও সহজে চিকিৎসা দিতে না পারা, নগরায়ণ ও সময়ের পরিবর্তিত বাস্তবতায় মানুষের দ্রুত অবস্থানগত পরিবর্তন, জলবায়ুগত পরিবর্তন প্রভৃতি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সকাল ৮টায় একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। র্যালিটি রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সিরডাপের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এ ছাড়া সিরডাপ মিলনায়তনে বেলা সাড়ে ১১ টায় আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
এবারের বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রস্তুত আমরা।’
এমইউ/জেডএ/পিআর