কেনা হবে এক্সরে ক্যাথল্যাব মেশিন, জাপান যাচ্ছেন সচিব-ডেস্ক অফিসার
জাপান থেকে ডিজিটাল ও মোবাইল এক্সরে, রেডিওলজিক্যাল এবং ক্যাথল্যাব মেশিন কিনতে যাচ্ছে সরকার। এসব মেশিনের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ না পাঠিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, সহকারী সচিবসহ ডেস্ক অফিসারকেও দেশটিতে পাঠানো হচ্ছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজধানীর একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের না পাঠিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, সহকারী সচিবদের বিদেশ ভ্রমণের এ ধরনের অনেক উদহরণ রয়েছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে তাদের পাঠানো নিছক প্রমোদভ্রমণ ও অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
'আচ্ছা, আপনিই বলুন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, সহকারী সচিবরা ডিজিটাল, মোবাইল এক্সরে এবং ক্যাথল্যাব মেশিনের ভালো-মন্দের কি বুঝবেন? অথচ এসব মেশিন কেনার আগে (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) উপ-সচিব, সহকারী সচিব, বিভিন্ন দফতরের পরিচালক এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের ডেস্ক অফিসারকেও এক সপ্তাহের সফরে জাপানে পাঠানো হচ্ছে',- এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য এসব ডিজিটাল ও মোবাইল এক্সরে, ক্যাথল্যাব মেশিন কেনা হবে। এক সপ্তাহের জন্য আগামী ১৭ থেকে ২৩ নভেম্বর তাদের জাপান সফর করার কথা রয়েছে।
গত ৩০ অক্টোবর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ নুরা আলম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি নির্দেশনায় (তিনি নিজেও প্রতিনিধি দলের সদস্য) একটিতে বলা হয়, ডিজিটাল এক্সরে মেশিন ৫০০ এমএ ও মোবাইল এক্সরে মেশিন ৩০০ এমএ উইথ সিআর এবং রেডিওলজিক্যাল মেশিন কেনা হবে। এ জন্য উপ-সচিব মোহাম্মদ নুরা আলম সিদ্দিকী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও তেজগাঁও সিএমএসডির সহকারী পরিচালক ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহা জাপানে যাবেন।
অপর নির্দেশনায় বলা হয়, ক্যাথল্যাব মেশিন প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনে (পরিদর্শন বা গুণগত মান যাচাই) ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল একই সময়ে জাপান যাবেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো আফজালুর রহমান, উপ-সচিব মো.মোতাহের হোসেন, উপ-সচিব হাফিজুর রহমান চৌধুরী, সহকারী সচিব এম কে হাসান মোর্শেদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. খাজা আবদুল গফুর ও সরকারের কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) ডেস্ক অফিসার ডা. মো.আলী আশরাফ।
এমইউ/জেডএ/এমএস