বিপর্যস্ত গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশ নিশ্চিতের আহ্বান
বিপর্যস্ত গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা/ ছবি : এএফপি
দুই বছর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার হাসপাতালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইসরায়েল। ফলে উপত্যকার পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এদিকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।
আল জাজিরার তথ্য মতে, এ পর্যন্ত ৩৮টি হাসপাতাল ও বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ প্রায় শূন্য। ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অঙ্গহানি হয়েছে, কেউ অন্ধ বা পঙ্গু হয়ে গেছেন। এছাড়া প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার রোগী গাজা থেকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। এসব আহতের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও চিকিৎসার প্রয়োজন, কিন্তু গাজায় তা এখন প্রায় অসম্ভব।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের সাবেক প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ মখাল্লাতি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পরও গাজার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি চরমভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল এখনো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, ফলে গাজায় প্রবেশ করা সহায়তা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খুবই সীমিত পরিমাণে আসছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বেশিরভাগ বিদেশি চিকিৎসককে গাজায় ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই যা ঘটছে, তা মূলত জাতিগত নির্মূল এবং গণহত্যার ধারাবাহিকতাই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ দেওয়া এক পোস্টে আলবানিজ লিখেছেন, যদি সত্যিই শান্তি শুরু হয়ে থাকে এবং গাজা আর ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা সেখানে ঢুকতে পারবেন এবং ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আবারও তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করতে পারবে— তাই তো? নাকি ইসরায়েল এখনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভয় পাচ্ছে?
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন বলে তথ্য প্রকাশ করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইউনিসেফের তথ্য মতে, এ যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৪২ হাজারের বেশি শিশু; যাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
কেএম