ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘খোলামেলা’ পোশাকে খামেনির উপদেষ্টার মেয়ে, ইরানজুড়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২৫

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলী শামখানির মেয়ের জমকালো বিয়ের একটি ফাঁস হওয়া ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমা ধাঁচের বিয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ওই ফুটেজটি তাৎক্ষণিকভাবে সবার নজর কেড়েছে। কারণ, কনে ও কনের মায়ের পোশাক ছিল ‘খোলামেলা’, যা ইরানের মতো একটি দেশে একেবারেই অস্বাভাবিক, যেখানে বাধ্যতামূলক হিজাব ও শালীনতার আইন কয়েক দশক ধরে কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর এক্সে (পূর্বে টুইটার) ফাঁস হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য শামখানি তার মেয়ে ফাতেমাকে একটি বিশাল হলরুমের মধ্যে দিয়ে বিয়ের মণ্ডপে নিয়ে যাচ্ছেন। কনের গায়ে সাদা রঙের পশ্চিমা ধাঁচের গাউন ও মায়ের গায়ে নীল রঙের গাউন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তেহরানের বিলাসবহুল এস্পিনাস প্যালেস হোটেলে এই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। সেসময়, ইরানের মিডিয়া অনুমান করেছিল যে এর খরচ প্রায় ১৪ বিলিয়ন রিয়াল বা ২১ হাজার ডলারেরও বেশি। যদিও শামখানির পরিবার প্রকাশ্যে এসব প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেনি। সাধারণত, ইরানে এমন জমকালো অনুষ্ঠানগুলো গোপনীয়তার মধ্যে আয়োজন করা হয়।

এদিকে, ভিডিওটি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের জনগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, যখন দেশবাসী ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যে জর্জরিত ও হিজাব টহল আবার শুরু হয়েছে, তখন কর্মকর্তারা ভণ্ডামি করছেন। এসমাঈল এসবাতি নামের এক ব্যবহারকারী এক্সে লিখেছেন, ভণ্ডামি না থাকলে এমন গোপনীয়তা কেন?

অবশ্য অনেক ইরানিই বিয়ের ভিডিওটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তাদের মতে, এটি ইরানের অন্যান্য অজস্র জমকালো অনুষ্ঠানের মতোই। তাদের কাছে শামখানির মেয়ের এই বিয়ে একটি পরিচিত চিত্র, যেখানে সিনিয়র কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মিতব্যয়ীতা ও বিপ্লবী সরলতার বুলি আওড়ান, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন।

২০২২ সালে, ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ একই ধরনের একটি কেলেঙ্কারির মুখে পড়েছিলেন, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘লেয়েট-গেট’। তার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাকে তুরস্ক থেকে বিলাসবহুল সামগ্রী নিয়ে ফিরতে দেখা গিয়েছিল। অভিজাতদের ভণ্ডামির প্রতীক হিসেবে দেখা এই ঘটনাটি ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রচারণার সময়ও সামনে এসেছিল।

বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা ও ৪০ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইরানের দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট জন অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী প্রায় ভেঙে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ও খরচ আকাশছোঁয়া হওয়ায় বহু তরুণ-তরুণী বিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছেন বা একেবারে ছেড়ে দিচ্ছেন।

এক্সে পোস্ট করে একজন ব্যবহারকারী ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে তাদের সাদাসিধা জীবনযাপন ও পুঁজিবাদবিরোধী স্লোগানগুলোকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন।

আরেক ব্যবহারকারী ক্ষমতাসীনদের কথার কঠোর সমালোচনা করে লিখেছেন, আপনারা আপনাদের সন্তানদের জন্য যত বিলাসবহুল পার্টি চান করুন, আমরা হিংসা করছি না। কিন্তু বলবেন না যে নিষেধাজ্ঞা একটি আশীর্বাদ বা মানুষ এইভাবেই বাঁচার পথ বেছে নিয়েছে। যখন বেশিরভাগ নাগরিক দারিদ্র্যে বসবাস করছে, তখন আপনার সন্তানের বিয়ে মসজিদে দিন, এস্পিনাস প্যালেসে নয়।

ভিডিওটি নিয়ে এত বেশি সমালোচনা হওয়ার আরেকটি কারণ হলো- সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, ইরানের নীতি পুলিশ কয়েক মাসের অনুপস্থিতির পর আবার রাস্তায় ফিরে এসেছে। হিজাব আইন জোরদার করার নতুন পরিকল্পনার খবরও সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই পটভূমিতে, শামখানির বিয়ের অনুষ্ঠানে পর্দা ছাড়া নারী ও জমকালো সজ্জার চিত্র তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, বিষয়টি ইরানের রক্ষণশীলদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কট্টর রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ আলী আকবর রায়েফিপুর এক্সে লিখেছেন, আমরা কীভাবে লোকেদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে ধৈর্য ধরতে বলতে পারি, যখন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি দেশের অন্যতম বিলাসবহুল হোটেলে তার মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন? রায়েফিপুর আরও উপহাস করে জিজ্ঞাসা করেছেন যে এমন ভেন্যুগুলোর বাইরে হিজাব এনফোর্সমেন্ট ভ্যান রাখা হবে কিনা।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের সাবেক প্রধান ইজাতুল্লাহ জারঘামি, রোববার (১৯ অক্টোবর) এই বিতর্কের মুখে শামখানির পক্ষ নিয়ে বলেন, কনের বাবা ‘শুধু নারীদের জন্য’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার মেয়েকে বরের কাছে হাঁটিয়ে নিয়ে যান। সেসময় শামখানি মাথা নিচু করে রেখেছিলেন। সেসময় কিছু নারী হিজাব পরেছিলেন ও বাকিরা ছিলেন মাহরাম (নিকটাত্মীয়)।

তিনি ইসরায়েলকে এই ভিডিও ফাঁস করার জন্য অভিযুক্ত করে বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে অনুপ্রবেশ ইসরায়েলের নতুন ধরনের গুপ্ত আক্রমণ।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এসএএইচ