নরওয়েতে ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখোমুখি রাজপরিবারের সদস্য
নরওয়েতে ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখোমুখি রাজপরিবারের সদস্য
নরওয়ের সবচেয়ে বড় নারীস্বাস্থ্য সংগঠন জানিয়েছে, রাজপরিবারের এক সদস্যের ধর্ষণ মামলার বিচার সামনে আসার প্রেক্ষাপটে ঘরোয়া সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ জানাতে আসা নারীর সংখ্যা বেড়েছে। সংগঠনটি আশা করছে, এই মামলা সমাজের দীর্ঘদিনের ট্যাবু ভাঙতে সহায়তা করবে।
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ২৮ বছর বয়সী ছেলে মারিউস বর্গ হইবি আগামী ফেব্রুয়ারিতে আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে চারটি ধর্ষণসহ মোট ৩২টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে এক সাবেক সঙ্গীর ওপর ঘরোয়া নির্যাতন এবং কয়েকজন নারীর অজান্তে ও অনুমতি ছাড়া তাদের ভিডিও ধারণ।
হইবির আইনজীবী পেটার সেকুলিচ জানিয়েছেন, তার মক্কেল সব ধরনের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সহিংসতা সংক্রান্ত অধিকাংশ অভিযোগও মানেননি। তিনি বলেন, আদালতে হইবি নিজের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবেন।
হইবির মা ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট এবং সৎবাবা ক্রাউন প্রিন্স হাকন, যিনি নরওয়ের ভবিষ্যৎ রাজা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে হইবির সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
নারীস্বাস্থ্য সংগঠন স্যানিটেটস্কভিনেনের মহাসচিব মে ব্রিট বুউহাগ জানান, তাদের নারীস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সম্প্রতি সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের সহায়তা চাওয়ার হার বেড়েছে। বিচার শুরু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।
বুউহাগ বলেন, আমাদের কেন্দ্রে এখন বেশি নারী সাহায্য ও পরামর্শ চাইতে আসছেন। হইবির মতো মামলার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রচার নারীদের সাহায্য চাইতে সাহস জোগায়। খোলামেলা আলোচনা ট্যাবু ভাঙে—এটি একটি ইতিবাচক দিক।
নরওয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভায়োলেন্স অ্যান্ড ট্রমাটিক স্ট্রেস স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে ১ জন ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর কাছ থেকে গুরুতর সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এদিকে, একটি নতুন বইয়ে দাবি করা হয়েছে—হইবি নাকি নিজে অসলো শহরের রাস্তায় মাদক বিক্রি করতেন। প্রকাশ ঠেকাতে চেষ্টা করলেও বইটি বের হয়েছে। তবে এসব অভিযোগও হইবি অস্বীকার করেছেন।
এই বিতর্ক রাজতন্ত্রবিরোধীদেরও সক্রিয় করেছে। নরওয়ের বর্তমান রাজা হারাল্ড পঞ্চম ১৯৯১ সাল থেকে সিংহাসনে আছেন এবং তার বয়স এখন ৮৮ বছর। ১৯৯০ সালের আগে উত্তরাধিকার আইনের কারণে তার দ্বিতীয় সন্তান হাকন সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমএসএম