সুইজারল্যান্ডে মাদুরো ও ঘনিষ্ঠদের সম্পদ জব্দের আদেশ
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যে-কোনো সম্ভাব্য সম্পদের ওপর চার বছরের জন্য সতর্কতামূলক জব্দাদেশ জারি করেছে বিশ্বের ব্যাংক খ্যাত সুইজারল্যান্ড। তবে দেশটি এখনো নিশ্চিত করেনি যে সুইজারল্যান্ডে আদৌ মাদুরো বা তার ঘনিষ্ঠদের কোনো সম্পদ রয়েছে কি না কিংবা থাকলে তার পরিমাণ কত।
সুইস সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে অর্জিত কোনো সম্পদ যাতে সুইজারল্যান্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া না যায় তা নিশ্চিত করতেই ফেডারেল কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাদুরো গ্রেফতারের পর এটি প্রথম নতুন সম্পদ জব্দ সংক্রান্ত ঘোষণা।
সুইজারল্যান্ডের ফরেন ইলিসিট অ্যাসেট অ্যাক্ট(এফআইএএ)–এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, বিদেশি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদ জব্দ ও ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সে অনুযায়ী, মাদুরো ও তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামে সুইজারল্যান্ডে থাকা যে-কোনো সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে সুইস সরকার স্পষ্ট করেছে, এই জব্দাদেশ ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের কোনো সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যদি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয় যে এসব অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত তাহলে সুইজারল্যান্ড চেষ্টা করবে যেন ওই সম্পদ ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই সুইজারল্যান্ড ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখেছে। এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও কারাকাসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
কেএম