ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে বিদেশি সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করবে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো যে কোনো সেনা রাশিয়ার কাছে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধবিরতি হলে সেখানে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানানোর পর এ প্রতিক্রিয়া এলো।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনপন্থি পশ্চিমা দেশগুলোর একটি জোটের সামরিক মনোভাবপূর্ণ ঘোষণা ক্রমেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকের পর এই প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালো রাশিয়া। ওই বৈঠকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স ভবিষ্যতে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে একটি অভিপ্রায়পত্রে সই করে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রয়োজনে কয়েক হাজার ফরাসি সেনা পাঠানো হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি আইনি কাঠামোর পথ খুলবে, যার আওতায় ব্রিটিশ, ফরাসি ও মিত্র বাহিনী ইউক্রেনের আকাশ ও সমুদ্র নিরাপদ রাখতে এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে পুনর্গঠনে কাজ করতে পারবে।

এ বিষয়ে রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে পশ্চিমা সামরিক ইউনিট, ঘাঁটি, গুদাম বা অন্য কোনো সামরিক অবকাঠামো মোতায়েনকে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরা হবে, যা শুধু রাশিয়ার নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি হুমকি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব ইউনিট ও স্থাপনাকে রুশ সশস্ত্র বাহিনী বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে।

রাশিয়ার অভিযোগ, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ ও কিয়েভ সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলো কার্যত একটি যুদ্ধের অক্ষ তৈরি করছে, যা ইউরোপের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ মানুষের জন্য ধ্বংসাত্মক। পশ্চিমা রাজনীতিকরা জনগণকে এসব পরিকল্পনার খরচ বহনে বাধ্য করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যুক্ত হওয়া থেকে ঠেকানো এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার রোধ করতেই তারা এই পদক্ষেপ নেয়। রাশিয়া বরাবরই ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনা মোতায়েনকে অগ্রহণযোগ্য বলে আসছে।

অন্যদিকে ইউক্রেন ও তার মিত্ররা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে রাশিয়ার আরেকটি হামলা ঠেকাতে যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ইউক্রেনের জন্য শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনে নিজস্ব সেনা পাঠাবে না। তবে প্যারিসের বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম