ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ধনকুবের বন্ধুর কূটবুদ্ধিতে ট্রাম্পের নজর কেড়েছে গ্রিনল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ একদিন তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে ওভাল অফিসে দেখা করতে বলেন। তখন ট্রাম্প বোল্টনকে বলেছিলেন,তার ঘনিষ্ঠ একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র যেন গ্রিনল্যান্ড কিনে নেয়।

এই অস্বাভাবিক প্রস্তাবের নেপথ্যে ছিলেন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধু ধনকুবের রোনাল্ড লডার। প্রসাধনী জায়ান্ট এস্তে লডার-এর উত্তরাধিকারী রোনাল্ডের সঙ্গে ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ট সম্পর্ক

সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, লডারের প্রস্তাবের পর হোয়াইট হাউস গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর নানা পথ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসে এই ধারণা আবার সামনে আসে, যা বোল্টনের মতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনকে স্পষ্ট করেছে।
বোল্টন বলেন, ‘বন্ধুদের কাছ থেকে শোনা কথাকে তিনি সত্য ধরে নেন আর সেই মত বদলানো প্রায় অসম্ভব।’

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ আরও তীব্র হয়েছে। এখন শুধু কেনার কথা নয় প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও ভাবছেন ট্রাম্প। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অন্য দেশের হাতে থাকা অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

জানা গেছে, গ্রিনল্যান্ড কিনতে ট্রাম্পকে লডারের নীতিগত পরামর্শ দেওয়ার পেছনে ব্যাবসায়িক স্বার্থ রয়েছে। ট্রাম্প যখন গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি জোরালো করছেন, তখন লডার সেখানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিনিয়োগ করছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গেও লডারের নাম রয়েছে। এ কারণেই যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের সম্পদ ভাগাভাগিতে ট্রাম্প এত উৎসাহিত হয়েছে।

২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় ফেরার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার বক্তব্য ডেনমার্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ন্যাটোর এক সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরেক সদস্যের সামরিক পদক্ষেপ জোটটিকে ভেঙে দিতে পারে।
কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প। তিনি বলেন,‘আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করব—হোক সেটা ভালোভাবে, না হলে কঠিনভাবে।’

গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে। লডার-সংশ্লিষ্ট একটি কনসোর্টিয়াম সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিথিয়াম খনির ইজারা পেয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন যৌথভাবে খনিজ সম্পদ ব্যবহারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, এ অঞ্চলে রুশ ও চীনা বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এবং এ দ্বীপ রক্ষা করার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।

এছাড়া, ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভূভাগের অখণ্ডতা রক্ষায় একজোট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের ক্ষমতাধর ছয়টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কে এম