এক ছবিতে তিন দেশ: ট্রাম্পের কল্পনায় বদলে গেলো বিশ্ব মানচিত্র
কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন মালিকানার অংশ হিসেবে দেখানো একটি এডিটেড ছবি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ ছবি দিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি।
একটি পোস্টে দেখা যায়, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসে থাকা ট্রাম্পের একটি পুরোনো ছবি। তার পেছনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাটি পরিবর্তন করে তাতে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ওই ছবিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনকেও দেখানো হয়েছে।

আরেকটি পোস্টে ট্রাম্পকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়। ছবির এক পাশে একটি ফলকে লেখা রয়েছে-গ্রিনল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড,স্থাপিত ২০২৬।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে ফিল্মি স্ট্রাইলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ভেনেজুয়েলা থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে থাকবে, যতক্ষণ না নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়।
৮ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রভাব রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়েও ট্রাম্প বারবার কথা বলেছেন। মঙ্গলবার তিনি ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে–র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দাভোসে একাধিক পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান। তিনি আবারও বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্য কানাডার সঙ্গে পুরোনো উত্তেজনাকেও উসকে দিয়েছে। গত বছর তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না।
ডেনমার্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে গ্রিনল্যান্ডের ঘাঁটিতে সামরিক প্লেন পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড)–এর অধীনে থাকা একটি সামরিক উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড সরকারকেও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে ডেনমার্ক ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি জানান, সমঝোতা না হলে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ এবং ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে।
কেএম