ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ভারী বৃষ্টি-তুষারপাতে আফগানিস্তানে ৬১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

আফগানিস্তানে টানা তিন দিনের তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুর্যাগের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১০ জন। ধ্বংস হয়েছে ৪৫৮টি বাড়ি। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএনডিএমএ) বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে এসব প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া একাধিক প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এএনডিএমএ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ১১০ জন আহত হয়েছেন এবং ৪৫৮টি বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

এএনডিএমএর এক মুখপাত্র জানান, এসব দুর্যোগে অন্তত ৩৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি তুষারাচ্ছন্ন সড়কে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত এড়িয়ে চলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাড়ির ছাদ ধসে পড়া ও তুষারধসের কারণে। এ ছাড়া হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার কারণে অনেক মানুষ মারা গেছেন। কর্তৃপক্ষ নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারের জরুরি বিভাগ জানায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত বছরের আগস্টের শেষের দিকে ও এরপর নভেম্বরে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। যার ফলে গ্রামগুলো ধ্বংস হয়ে যায় ও ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। এর ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা এখনো পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করছে এই অঞ্চলের অধিবাসীরা।

ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুতরা বিশেষ করে তীব্র ঠান্ডা এবং বিরূপ আবহাওয়ার জন্য এখনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ইউনিসেফ জানায়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আনুমানিক ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু ‘ঠান্ডাজনিত প্রাণঘাতী রোগের গুরুতর ঝুঁকিতে’ রয়েছে।

বিদেশি সহায়তা না আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় চলতি বছরে আফগানিস্তানে অন্তত দুই কোটি মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ