ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

রাফাহ ক্রসিং খোলা নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন দূতেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

গাজা ও মিশরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে তারা এই আহ্বান জানান বলে রোববার (২৫ জানুয়ারি) জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।

এই তথ্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজার জন্য সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এক প্রশাসক বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জানিয়েছিলেন, আগামী সপ্তাহেই রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকের যাতায়াতের জন্য চালু হবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট এক অজ্ঞাতপরিচয় ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, নেতানিয়াহু, উইটকফ ও কুশনারের মধ্যকার বৈঠকটি ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। সেই সঙ্গে উইটকফ ইসরায়েলের ওপর চাপ দেন যে, হামাসের হাতে আটক শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত আসার আগেই যেন রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়।

ওই কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে উইটকফ গাজার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনাও উত্থাপন করেন।

ইয়েনেটের প্রতিবেদনে কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, উইটকফ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্ককে আমাদের সীমান্তে নিয়ে আসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের দিকে সময় দ্রুত এগোচ্ছে, যা আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রকৃত হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ওই কর্মকর্তা উইটকফের বিরুদ্ধে দোহা বা কাতারের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, উইটকফ কার্যত ‘কাতারি স্বার্থের লবিস্টে পরিণত হয়েছেন।’

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে চাইলে নেতানিয়াহুর দপ্তরের মুখপাত্র শোশ বেদ্রোসিয়ান ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় তুরস্কের কোনো ভূমিকা নেতানিয়াহু আগেও বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের ইসরায়েল হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েল ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলা ট্রাম্প ঘোষিত গাজা যুদ্ধবিরতির কাঠামোর অংশ, যা তিনি গত অক্টোবর মাসে ঘোষণা করেছিলেন। তবে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনী ক্রসিংটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এটি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন তদারকির দায়িত্বে থাকা ১৫ সদস্যের ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির প্রধান আলী শাথ বলেন, আগামী সপ্তাহেই এই সীমান্ত গেটওয়ে আবার চালু হবে।

রাফাহ ক্রসিং গাজার ২২ লাখ মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ। আলী শাথ বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের কাছে রাফাহ শুধু একটি গেট নয়, এটি জীবনরেখা এবং সম্ভাবনার প্রতীক।

এদিকে, গাজায় এখনো আটকে থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মির পরিবারের চাপের মুখে রয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে বর্তমানে শুধু রান গিভিলির মরদেহই গাজায় রয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা এ মাসে দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। তবে এই সময়ের মধ্যেও ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ