ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

খণ্ডকালীন কাজের অধিকার সীমিত করতে চায় জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:১২ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

খণ্ডকালীন কাজের অধিকার সীমিত করতে চায় জার্মানি। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উঠিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলগুলো। তাদের লক্ষ্য, আরও বেশি মানুষকে পূর্ণকালীন কাজে যুক্ত করা এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরানো। এ প্রস্তাব ঘিরে সোমবার জোটসঙ্গী দল ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানি কয়েক বছর ধরেই স্থবিরতার মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্র-ডানপন্থি সিডিইউ দলের চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস সম্প্রতি বলেছেন, অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে আরও বেশি কাজ ও উৎপাদনশীলতা প্রয়োজন।

জার্মানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে নারীরা খণ্ডকালীন কাজ করেন। একই সঙ্গে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ শ্রমিক সংকটে ভুগছে।

ম্যার্ৎসের মন্তব্যের পর খণ্ডকালীন কাজের অধিকার সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী কাথারিনা রাইখে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জোরালো করেন।

হামবুর্গ শহর সফরকালে সিডিইউ নেতা রাইখে বলেন, পরিবারের জন্য শিশু পরিচর্যা কিংবা নির্ভরশীলদের যত্নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে আরও বেশি পূর্ণকালীন কাজ প্রয়োজন। সিডিইউর ব্যবসাবান্ধব অংশ খণ্ডকালীন কাজের আইনি অধিকার সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে আইনে নিশ্চিত করা আছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কারণ যেমন- সন্তান প্রতিপালন, আত্মীয়ের দেখভাল কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে খণ্ডকালীন কাজের অনুমতি থাকবে। বিষয়টি ফেব্রুয়ারিতে সিডিইউর কংগ্রেসে আলোচনার জন্য তোলা হবে।

এদিকে, এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন জোটের জুনিয়র অংশীদার মধ্য-বামপন্থি এসপিডি।

মেকলেনবুর্গ-ভরপোমার্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানুয়েলা শভেসিগ স্টার্ন ম্যাগাজিনকে বলেন, জার্মানিতে মানুষ যথেষ্ট কাজ করে না- এই কথা বারবার বলার আগে সিডিইউর আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

জার্মানির শক্তিশালী ধাতুশ্রমিক ইউনিয়ন আইজি মেটালও এমন প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ফ্রাঙ্কফুর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান বেনার বলেন, সমস্যা কাজ করার ইচ্ছা বা সক্ষমতার ঘাটতি নয়, বরং যারা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন না, তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অভাব।

সম্প্রতি ম্যার্ৎস আরেক বিতর্কের জন্ম দেন, যখন তিনি জার্মানিতে অসুস্থতাজনিত ছুটির মাত্রা অতিরিক্ত বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটিতে শ্রমিকরা গড়ে বছরে প্রায় তিন সপ্তাহ অসুস্থতাজনিত ছুটি নেন ও ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেই অসুস্থতার সনদ পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ