বিশ্ববাজারে ফের সোনার দামে রেকর্ড
বিশ্ববাজারে ফের রেকর্ড ছাড়ালো সোনার দাম। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা মজুতের দিকে ঝুঁকছেন। আর এতেই সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, ডলারের দুর্বলতা অব্যাহত থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আরও বেড়েছে। ফলে প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১ দশমিক ১ গ্রাম) সোনার দাম নতুন রেকর্ড গড়ে ৫ হাজার ২৭৮ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। ১ ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, যা সাধারণ বাণিজ্যিক ১ আউন্সের (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। আবার ১ আউন্স সমান প্রায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি।
এর আগে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো সোনার দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়ায়। সেদিন স্পট সোনা প্রতি আউন্স ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৬ ডলার দাঁড়িায়।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর জোরালো সম্ভাবনায় সোনার দামে এই বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ফেড) সর্বশেষ নীতি বৈঠকের দিকেও সতর্ক নজর রাখছেন। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে সুদহার নিয়ে ফেড কী দিকনির্দেশনা দেয়, তা জানতে আগ্রহী তারা।
মঙ্গলবার ডলারে বড় ধরনের বিক্রি চাপ দেখা যায়। এর পেছনে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য- তিনি ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনে সন্তুষ্ট। ওই দিন ইউরোর বিপরীতে ডলার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ১ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ে বাজারের ট্রেডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে- এমন প্রতিবেদনের পর ডলার সব বড় মুদ্রার বিপরীতেই দুর্বল হয়েছে। এতে জল্পনা ছড়ায়, ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ হস্তক্ষেপ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউজ হয়তো ডলারকে দুর্বল হতে দিতে রাজি। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ডলারের পতন নিয়ে উদ্বেগ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিষয়টি উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, না, আমার তো এটা দারুণ মনে হচ্ছে। ওই সময় ইয়েনের বিপরীতে ডলার নেমে আসে আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা যে ব্যবসা করছি, সেটা দেখুন। ডলার দারুণ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাস ফেড সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে ডলার দুর্বল থাকলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে সুদহার কমানোর সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে এক জরিপে দেখা গেছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, ইউরোপে, ফ্রান্সের শেয়ারবাজার সূচক সিএসি-৪০ বড় ধাক্কা খেয়েছে বিলাসপণ্য খাত নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে। বাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক মুনাফা ১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউরোতে (প্রায় ১৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার)।
এর প্রভাবে এলভিএমএইচের শেয়ার দর ৬ দশমিক ৫ শতাংশ পড়ে গেছে। লন্ডনে ব্রিটিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড বারবেরির শেয়ারও কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে ইতিবাচক দিকেও ছিল কিছু খবর। নেদারল্যান্ডসের সেমিকন্ডাক্টর তৈরির যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী প্রযুক্তি জায়ান্ট এএসএমএলের শেয়ার ছয় শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক মুনাফায় বড় উল্লম্ফন এবং আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা শত শত ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের চাকরি কমানোর কথাও জানিয়েছে।
এজে বেল ট্রেডার্সের বিনিয়োগ পরিচালক রাস মোল্ড বলেন, এএসএমএলের সর্বশেষ ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের জোয়ার এখনো পুরো দমে চলছে। অর্ডার শক্তিশালী এবং ভবিষ্যৎও আশাব্যঞ্জক।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ