ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার করলো আদানি গ্রুপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:১৪ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অবশেষে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আইনি সমন গ্রহণ করলেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানি। ২১ জানুয়ারি আইনজীবীদের মাধ্যমে সমন পাঠানোর পর ২৩ জানুয়ারি আদানির মার্কিন আইনজীবীরা সমন গ্রহণে রাজি হন।

মার্কিন আদালতের আদেশ অনুসারে, গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে আনা মামলায় আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব বা মামলাটি খারিজের আবেদন দাখিল করতে হবে। আদালত ৩০ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত স্টিপুলেশন (আবশ্যিক শর্ত বা কড়াকড়ি নিয়ম) অনুমোদন করার পর থেকেই সময় গণনা শুরু হয়েছে।

সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, আদালতের আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তরা ফেডারেল রুল অব সিভিল প্রসিডিউরের রুল ১২(এ) অনুযায়ী জবাব দাখিল করতে পারবেন অথবা রুল ১২(বি) অনুযায়ী অভিযোগ খারিজের আবেদন করতে পারবেন।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, সমন গ্রহণে রাজি হলেও আদানিরা মামলার সব প্রতিরক্ষা অধিকার রাখছেন, বিশেষত ব্যক্তিগত এখতিয়ারসংক্রান্ত আপত্তি তোলার অধিকারও বহাল থাকছে। অর্থাৎ, তারা চাইলে যুক্তি দিতে পারবেন যে মার্কিন আদালতের এই মামলার ওপর এখতিয়ার নেই।

স্টিপুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা যেহেতু ভারতে অবস্থান করছেন, তাই ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে এসইসি ভারতের আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে হেগ কনভেনশন অনুযায়ী নথি প্রেরণে সহযোগিতা চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি।

হেগ কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা সীমান্ত পেরিয়ে বিচারিক নথি প্রেরণের নিয়ম নির্ধারণ করে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করে আইন মন্ত্রণালয়।

একাধিকবার বাধা দিয়েছে ভারত

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত প্রথমবার এসইসির অনুরোধ ফিরিয়ে দেয় ও কারণ দেখানো হয় নথিতে প্রয়োজনীয় সিল ও স্বাক্ষর নেই। যদিও এসইসি জানায়, হেগ কনভেনশন অনুযায়ী এসব সিল-স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক নয় ও পূর্বেও ভারতের সঙ্গে এমন নথি বিনিময়ে এসব লাগেনি।

পরে এসইসি ২০২৫ সালের মে মাসে বিশদ ব্যাখ্যাসহ অনুরোধ ফের পাঠায়। কিন্তু ভারতীয় মন্ত্রণালয় কয়েক মাস কোনো জবাব দেয়নি। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন আপত্তি তোলে- একটি ‘অভ্যন্তরীণ এসইসি বিধির’ কথা বলে দাবি করে যে এই মামলায় হেগ কনভেনশন ব্যবহারযোগ্য নয়। এসইসি এ আপত্তিকে ভিত্তিহীন বলে।

বারবার বাধার কারণে ২১ জানুয়ারি এসইসি আদালতের কাছে আবেদন করে, যেন হেগ কনভেনশন প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে ইমেইল বা আদানির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবীদের মাধ্যমে সমন পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

এসইসির এ আবেদনের দুই দিন পরই আদানিদের মার্কিন কৌঁসুলি ২৩ জানুয়ারি সমন গ্রহণে রাজি হন। আদালত ৩০ জানুয়ারি তা অনুমোদন করে ও হেগ কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়।

আদানিদের পক্ষে তিনটি বড় মার্কিন আইন ফার্ম

গৌতম ও সাগর আদানির পক্ষে মামলা লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শীর্ষ আইন ফার্ম- সালিভান অ্যান্ড ক্রোমওয়েল, নিকসন পিবডি ও হেকার ফিঙ্ক।

আদানির পক্ষে থাকা আইনজীবীদের একজন হলেন রবার্ট জিওফরা জুনিয়র, যিনি সালিভান অ্যান্ড ক্রোমওয়েলের কো-চেয়ার ও একই সঙ্গে ২০২৪ সালের দণ্ডাদেশ বাতিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষেও লড়ছেন।

শত শত মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারি অভিযোগ

এসইসি ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে গৌতম ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতারণার অভিযোগ আনে। অভিযোগে বলা হয়, তারা শত শত মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়ে ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সোলার এনার্জি প্রকল্পের চুক্তি পেতে একটি পরিকল্পিত কেলেঙ্কারি পরিচালনা করেছিলেন।

এ অভিযোগ ওঠে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের একটি বন্ড অফারিংকে কেন্দ্র করে, যেখানে আদানি গ্রিন এনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল তোলে। এসইসির অভিযোগ, ওই বন্ড অফারিংয়ের নথিতে কোম্পানির দুর্নীতি-প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

ফেডারেল প্রসিকিউটররা একই দিনে সমান্তরালভাবে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যেখানে সিকিউরিটিজ প্রতারণার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এই ফৌজদারি মামলা এসইসির দেওয়ানি মামলার বাইরে আলাদাভাবে চলছে।

তবে, আদানি গ্রুপ এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ও জানিয়েছে, তারা সব ধরনের আইনি প্রতিকার গ্রহণ করবে।

সূত্র: দ্য ওয়্যার

এসএএইচ