ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

সুদানের মসজিদে আরএসএফের ড্রোন হামলায় ২ শিশুর মৃত্যু, আহত ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:২৫ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় নর্থ করদোফান রাজ্যের একটি মসজিদে ড্রোন হামলায় অন্তত দুই শিশু নিহত এবং আরও ১৩ জন আহত হয়েছে। দেশটিতে চলমান সংঘাতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক নামের চিকিৎসক সংগঠন জানিয়েছে, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শেখ আহমেদ আল-বাদাউই মসজিদে এই হামলা চালানো হয়। হামলার সময় মসজিদের ভেতরে শিশুরা কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছিল।

সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এই হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক বিবৃতিতে এ হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং উপাসনালয়ে গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে চিকিৎসক সংগঠনটি।

তারা বলেছে, মসজিদের ভেতরে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি পূর্ণাঙ্গ অপরাধ, যা কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। এটি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লঙ্ঘনের বিপজ্জনক বহিঃপ্রকাশ।

সংগঠনটির দাবি, এর আগেও আরএসএফ খার্তুমের একটি গির্জা এবং এল-ফাশেরের আরেকটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে, যা ধর্মীয় স্থাপনার পবিত্রতার প্রতি স্পষ্ট ঘৃণার প্রমাণ।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, দক্ষিণ, উত্তর ও পশ্চিম করদোফান রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর একাধিক ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাদুগলিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি গুদামেও অজ্ঞাত রকেট হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।

দুজারিক বলেন, প্রতিদিন আমাদের পুনরায় বলতে হচ্ছে যে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো-উপাসনালয়, স্কুল ও হাসপাতাল-কখনোই লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়।

জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, সুদানের গৃহযুদ্ধ পশ্চিম দারফুর অঞ্চল থেকে করদোফান এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ড্রোন হামলায় ৯০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলার জন্য আরএসএফ এবং সুদানি সশস্ত্র বাহিনী উভয়কেই দায়ী করা হয়েছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে মুহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন আরএসএফ ও বুরহানের অধীনে থাকা সুদানি সামরিক বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। এর ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কেএম