লিবিয়া-গ্রিসে নৌকাডুবিতে নিহত ৮, উপকূলে ভেসে আসছে মরদেহ
ফাইল ছবি
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির নিকটবর্তী উপকূল থেকে পাঁচজন অভিবাসন প্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। একই সময়ে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে পৃথক নৌকাডুবিতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিস কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লিবিয়ার উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখইয়ারে স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহগুলো দেখতে পান। কাসর আল-আখইয়ার থানার তদন্ত প্রধান হাসান আল-গাওইল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই কৃষ্ণাঙ্গ এবং তাদের মধ্যে দুজন নারী। এলাকাবাসী একটি শিশুর মরদেহও ভেসে আসতে দেখলেও ঢেউ থাকায় শিশুটির মরদেহ আবার সাগরে ভেসে যায়।
তিনি বলেন, আমরা রেড ক্রিসেন্টকে মরদেহ উদ্ধারের জন্য জানিয়েছি। যে মরদেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো অক্ষত রয়েছে এবং আমরা আশঙ্কা করছি আরও মরদেহ ভেসে আসতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ আগে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ত্রিপোলির পশ্চিমে জুয়ারা উপকূলে ৫৫ আরোহী বহনকারী একটি রাবারের নৌকা ডুবে গেলে অন্তত ৫৩ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন, যার মধ্যে দুটি শিশু ছিল।
অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার এবং অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এথেন্স নিউজ এজেন্সি এমন তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের বেশিরভাগই মিশর ও সুদানের নাগরিক এবং তাদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানা গেছে।
গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি জানিয়েছে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সহায়তায় উদ্ধারকাজ চলাকালে যাত্রীরা মই বেয়ে ওঠার চেষ্টা করলে নৌকাটি উল্টে যায়। জীবিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকায় প্রায় ৫০ জন অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন।
গ্রিক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, চারটি টহল নৌকা, একটি বিমান এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের দুটি জাহাজ নিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই এলাকায় প্রায় ৪০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকাও শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।
প্রতি বছর হাজারো মানুষ লিবিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছাতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেন। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়া সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় অভিবাসীরা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও দাসত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসী নৌকা লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৭৭০ জন আশ্রয়প্রার্থী ক্রিটে পৌঁছেছেন। একই বছরে গ্রিক জলসীমায় ১০৭ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্যও দিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেএম