ইরান ইস্যুতে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প!
ফাইল ছবি
ইরান ইস্যুতে খুব ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) টেক্সাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সে সিদ্ধান্ত কী হতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত না বললেও দুটি পথ খোলা রাখার বিষয় স্পষ্ট করেছেন।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য প্রস্তুত। তবে ইরান সে পথ পরিহার করলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা সহজ কাজ নয়। আমাদের সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
এই অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৫ সালের জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেছেন। গত বছর একযোগে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। ওই যুদ্ধে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প তিনি বলেন, ‘সরকার বিরোধী বিক্ষোভে তাদের হাজার হাজার মানুষ সম্প্রতি নিহত হয়েছেন। আমি শুনেছি সে সংখ্যা ৩২,০০০’। যদিও তিনি এ তথ্যের উৎস বা বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তারা চায় চুক্তি করতে, কিন্তু তা হতে হবে অর্থবহ। আমি শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নিতে চাই, কিন্তু তারা খুব কঠিন মানুষ।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্টত ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রেখেছে, তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতিও রয়েছে।
ইরানে হামলা চালাতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইসরায়েলের উপকূলে মোতায়েন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিমান হামলা চালাতে বহুসংখ্যক যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান পাঠানোর প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েললে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইরানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন এফ-৩৫, এগ-১৫, এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোকে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কেএম