ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ইরানের ১০ দফা

শর্ত মেনে নেওয়া ‘ঐতিহাসিক বিজয়’: ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬:০৮ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে আলোচনায় রাজি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এসব শর্ত মেনে নেওয়াকে দেশটির ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি)

এসএনএসসি-এর বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুপক্ষ ইরানি জাতির বিরুদ্ধে তাদের কাপুরুষোচিত, অবৈধ ও অপরাধমূলক যুদ্ধে এক অস্বীকারযোগ্য, ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখে পড়েছে। ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পবিত্র রক্ত, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মোজতবা খামেনির পদক্ষেপ, সম্মুখযুদ্ধে ইসলামি যোদ্ধাদের সাহসিকতা এবং যুদ্ধের শুরু থেকেই জাতির ঐতিহাসিক উপস্থিতির ফলে ইরান এক মহান বিজয় অর্জন করেছে এবং অপরাধী আমেরিকাকে তাদের ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেছে।

এই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্বীকৃতি, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইএইএ বোর্ডের সব প্রস্তাব বাতিল, ক্ষতিপূরণ প্রদান, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইরানের জনগণকে এই বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়, চূড়ান্ত চুক্তির আগে এখনো ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।

গত ৪০ দিনে ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষ লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও অধিকৃত ফিলিস্তিনে শত্রুকে এমন আঘাত হেনেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শত্রুর সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে এবং তারা এখন আত্মসমর্পণে বাধ্য।

যুদ্ধের শুরুতে শত্রুপক্ষ ভেবেছিল দ্রুতই ইরানকে পরাজিত করবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে। তারা ধারণা করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দ্রুত থেমে যাবে, কিন্তু বাস্তবে ইরান সীমান্ত ছাড়িয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক জায়নিস্ট শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করেছিল। তারা ট্রাম্পকে বুঝিয়েছিল যে, এই যুদ্ধ ইরানকে শেষ করে দেবে এবং দেশটিকে ভেঙে সম্পদ লুট করা সহজ হবে।

তবে ইরান ও তার মিত্ররা এই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয় এবং শত্রুকে একটি ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে এবং শত্রুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলেছে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিনের মাথায় শত্রুপক্ষ বুঝতে পারে যে তারা জিততে পারবে না এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা শুরু করে।

ইরান জানায়, তারা শুরু থেকেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সময়সীমা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

এখন ইরান দাবি করছে, যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং শত্রু ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তবে প্রয়োজন হলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ভিত্তি হিসেবে এই ১০ দফা নীতিমালা মেনে নিয়েছে। সেই অনুযায়ী ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এই আলোচনা ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল শুরু হবে এবং দুই সপ্তাহ চলবে। তবে এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয় -চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।

সবশেষে বলা হয়, এই সময়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি আলোচনায় এই ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ নিশ্চিত হয়, তাহলে তা উদযাপন করা হবে; অন্যথায় ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

‘আমাদের হাত ট্রিগারে রয়েছে—শত্রুর সামান্য ভুলেরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

কেএম