EN
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ভারতীয় বন্দরের নেটওয়ার্কে এখনও সক্রিয় চীনা হ্যাকাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২১

ভারত তাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় সাইবার হামলা আটকাতে পারলেও দেশটির বন্দরে চীনা হ্যাকারদের অন্তত একটি সংযোগ এখনও সক্রিয়। অর্থাৎ, ভারতীয় বন্দরটির নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় এখনও প্রবেশ করতে পারছে ‘চীনের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট’ হ্যাকাররা। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘রেকর্ডেড ফিউচার’। খবর ব্লুমবার্গের।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার স্টুয়ার্ট সলোমনের ভাষ্যমতে, ভারতের একটি বন্দর এবং চীন সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপের (হ্যাকার) মধ্যে গত মঙ্গলবারও সংযোগ থাকতে দেখা গেছে।

jagonews24

রেকর্ডেড ফিউচার চীনা গ্রুপটির নাম রেডিইকো বলে উল্লেখ করেছে। চীনা এই হ্যাকার গ্রুপটি ভারতের বৈদ্যুতিক গ্রিডের ১০টি সত্তা এবং অন্তত দু’টি সমুদ্র বন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। এ বিষয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিমকে সতর্ক করেছিল রেকর্ডেড ফিউচার।

সলোমন জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব সংযোগের বেশিরভাগই সক্রিয় দেখা গেছে।

ভারতীয় বন্দরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সেখানে এখনও আক্রমণকারী এবং ভুক্তভোগীর মধ্যে একটি সক্রিয় সংযোগ রয়েছে। সেটা এখনও হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কোনও মন্তব্য করেনি। তবে বুধবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, কোনও ধরনের প্রমাণ ছাড়া একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে দোষারপ করা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত বছর লাদাখে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলাকালেই আচমকা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই। এর পেছনে চীন সরকারের মদতপুষ্ট হ্যাকারদের হাত ছিল বলে সম্প্রতি দাবি করেছে রেকর্ডেড ফিউচার।

জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে যায় গোটা মুম্বাই। শহরের দুই কোটি বাসিন্দা তো বটেই, সেখানকার পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্প এবং শেয়ারবাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে এর। থমকে যায় ট্রেনগুলো। কল-কারখানায় বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। কোভিড রোগীদের ভেন্টিলেটর চালু রাখতে জরুরি ভিত্তিতে চালু করতে হয় জেনারেটর। এসবের জেরে ব্যাপক ধস নামে শেয়ারবাজারে।

jagonews24

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেন ভারতীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। অন্ধকার থেকে মুক্তিও আসে দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে। তবে ওইটুকু সময়েই ভারতের ক্ষতি হয় অন্তত আড়াইশ’ কোটি রুপি।

ঘটনার পরপরই জানা গিয়েছিল, কালওয়াতে সেন্ট্রাল লাইনে গ্রিড বসে যাওয়ায় ওই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। এ নিয়ে তদন্তের পর সাইবার হামলার বিষয়টিও সামনে আসে। তবে পরে তা নিয়ে আর কোনও তথ্য জানানো হয়নি। একপ্রকার মুখে কুলুপ আঁটে মোদি সরকার।

রেকর্ডেড ফিউচারের প্রতিবেদন অনুসারে, সীমান্তে সংঘাত চলার মধ্যেই ভারতের প্রায় সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে ঝাঁকে ঝাঁকে ভাইরাস (ম্যালওয়্যার) ঢুকাতে থাকে চীনা হ্যাকাররা। ওই সময় ভারতের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিস্টেমেও ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এগুলোর মধ্যে সক্রিয় (অ্যাক্টিভেট) করা হয়েছিল হাতেগোনা কয়েকটি। একারণেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল শুধু মুম্বাইতে। একসঙ্গে সবগুলো সক্রিয় করলে গোটা ভারতই অন্ধকারে ডুবে যেত বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

কেএএ/জিকেএস