চিপ রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, চীনের চরম অসন্তোষ
ছবি: সংগৃহীত
উন্নত চিপ রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাইডেন প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞা বাজার অর্থনীতি ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতিগুলো লঙ্ঘন করেছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র চায় না অত্যাধুনিক চিপ কাজে লাগিয়ে চীন হাইপারসনিক মিসাইল ও এআইসংবলিত যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করুক। আর এ লক্ষ্যেই মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) চিপ রপ্তানির ওপর নতুন করে বিধি-নিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ৩০ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। একই নিষেধাজ্ঞা ইরান ও রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই সময়ের মধ্যে প্রযোজ্য হবে বলে জানা গেছে।
বিবিসি বলছে, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে চীনের সামরিক বাহিনী উন্নতমানের চিপ আমদানির সুযোহ হারিয়ে ফেলবে। গত অক্টোবর চিপ রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তার মধ্যে থাকা বিভিন্ন ফাঁকফোকর বন্ধ করার লক্ষ্যে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা এলো।
জানা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে মার্কিন চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়া। এমডি ও ইনটেলের বেলাতেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। এর পরপরই বাজারে বিভিন্ন মার্কিন চিপ কোম্পানির শেয়ারমূল্যও কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পর শেয়ারের দরপতনের কারণে একদিনেই ৫৩ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের মূলধন হারিয়েছে এনভিডিয়া। কোম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে কোম্পানিটির দুটি উন্নতমানের এআই চিপ ‘এ৮০০’ ও ‘এইচ৮০০’র বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। চীনা বাজারের জন্য বিশেষভাবে এইসব চিপ বানিয়েছিল কোম্পানিটি। এছাড়া, একটি গেমিং চিপে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও জানিয়েছে এনভিডিয়া।
অন্যান্য চিপ নির্মাতার ওপর এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়লেও বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে এনভিডিয়া। কারণ, কোম্পানিটির সামগ্রিক আয়ের ২৫ শতাংশই আসে চীন থেকে। নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্য কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ৯৯ শতাংশ আয়ে প্রতিনিধিত্ব করা সংগঠন ‘সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’ এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার কিছু কিছু নির্দেশনা একটু বেশিই কঠোর। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি না থাকার পরও মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভারসাম্য নষ্ট করবে। আর বিদেশি গ্রাহকরা যুক্তরাষ্ট্রের বদলে অন্য বাজার থেকে চিপ আমদানির কথা ভাবতে শুরু করবে।
গ্যালিয়াম ও জার্মেনিয়ামের মতো সেমিকন্ডাক্টর খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদানে দুই মাস আগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছিল চীন। এ দুটি উপাদান সরবরাহে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন। বিশ্লেষক সংস্থা ক্রিটিকাল র ম্যাটেরিয়ালস অ্যালায়েন্সের (সিআরএমএ) তথ্যানুসারে, বিশ্বের ৮০ শতাংশ গ্যালিয়াম ও ৬০ শতাংশ জার্মেনিয়াম উৎপাদন করে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশ।
এইসব উপাদান ‘মাইনর মেটাল’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ এ ধরনের উপাদান সাধারণ পরিবেশে পাওয়া যায় না। প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপান ও নেদারল্যান্ডসও চীনে চিপ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এমনকি সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি এএসএমএল-এর সদর দপ্তরও নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত।
গত বছরের অক্টোবরে চীনে এআইসংবলিত চিপ রপ্তানির ওপর বিধি-নিষেধ আরোপে আইন পাস করে যুক্তরাষ্ট্র। তখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে জেনারেটিভ এআই চালানোয় সক্ষম এইচ ১০০ চিপের বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হয় এনভিডিয়া।
সূত্র: বিবিসি
এসএএইচ
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ভিয়েতনাম
- ২ বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরানোর নির্বাচন, কার হাতে ভবিষ্যৎ?
- ৩ বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র ঢেলে সাজানো হয়েছে
- ৪ খুলেছে রাফাহ ক্রসিং, মিশরে প্রবেশ করছেন ফিলিস্তিনিরা
- ৫ ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে