পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি তদন্ত দল
পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা তদন্তে পাকিস্তানের যৌথ তদন্তকারী দল ভারতে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার তদন্তকারী কর্মকর্তারা ওই বিমানঘাঁটির আক্রান্ত অংশ পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের তদন্তকারী দলকে কেন পাঠানকোটে ঢুকতে দেওয়া হল, এই প্রশ্ন তুলে সকাল থেকেই বিমানঘাঁটির সামনে বিক্ষোভ করেছে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি নেতাকর্মীরা। সরকারও এই প্রশ্নে তাদের অস্বস্তি পুরোপুরি গোপন করতে পারছে না। তবে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ দাবি করেছেন, এই প্রথম পাকিস্তান কোনো জঙ্গি হামলার ‘সিরিয়াস’ তদন্ত করছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ভারতে যাবতীয় জঙ্গি হামলার জন্য এতদিন যে পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়েছে, তারা পাঠানকোট হামলার কী তদন্ত করবে? কংগ্রেস নেতা অনিল ভিজ বলেন, মোদি সরকার আর পাকিস্তান মিলে দেশের লোককে আজ বুদ্ধু বানাচ্ছে। সবাই জানে, পাকিস্তান কীভাবে জঙ্গিবাদে মদত দিয়ে আসছে। হামলা চালিয়েছে যারা, তারা আবার কীসের তদন্ত করবে? এদেরকে আমরা বিমানঘাঁটির ভেতরে ঢুকতে দিয়ে কী দেখাতে চাইছি?
পাক তদন্ত দলে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এক কর্মকর্তা আছেন, তাকে কীভাবে ভারত পাঠানকোটে আসতে দিল, সে প্রশ্নও তুলেছে আম আদমি পার্টি। দলের নেতা ও দিল্লির মন্ত্রী কপিল শর্মা বলেন, এটা গোটা ভারতের জন্য এক ‘চরম অপমান’।
তিনি আরে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কিছুতেই আমরা এভাবে দেশকে অপমান করতে দেব না। তার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে, তিনি হয়তো নওয়াজ শরিফের কাছে আত্মসমর্পণ করে থাকতে পারেন; কিন্তু তিনি আমাদের ভাবাবেগকে নিয়ে, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুতেই ছেলেখেলা করতে পারেন না। তাকে কিছুতেই আমরা সেটা করতে দেব না।’
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে জঙ্গি-হামলার জন্য ভারত পুরোপুরি পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে। ওই ঘটনার পর কখনো পাকিস্তান থেকে তদন্তকারীরা ভারতে আসেনি। সে দিক থেকে পাঠানকোটের এই তদন্ত ব্যতিক্রমী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শাসক দল বিজেপি এটাকেই তাদের কূটনীতির সাফল্য বলে তুলে ধরছে।
বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কলকাতায় দাবি করেছেন, এই প্রথম পাকিস্তান গুরুত্ব দিয়ে কোনও জঙ্গি-হামলার তদন্ত করছে। এখন এর পরিণাম কী হয়, সেটা আমরা দেখতেই পাব। তবে পাকিস্তানি দলের তদন্তের পরিসর খুব সীমিত, তারা এয়ারবেসেও যাচ্ছেন না, সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কোনো আলোচনা করছেন না। শুধু অন্য বিষয়গুলো দেখছেন।’
তবে পাকিস্তানি দল অবশ্য এই হামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী, পাঞ্জাব পুলিশের এক অফিসারকে জেরা করার অনুমতি পেয়েছে। এর আগে গতকাল দিল্লিতে তাদের টানা কয়েক ঘন্টা ধরে পাঠানকোট হামলায় পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের যোগসাজশের নানা প্রমাণ পেশ করেছেন ভারতীয় তদন্তকারীরা।
এসআইএস/এবিএস