পানামা পেপারস ফাঁস : সংবাদে কড়াকড়ি, দেশে দেশে তদন্ত
পানামা ভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। পানামার এই প্রতিষ্ঠান বলছে, গত ৪০ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাসীন নেতা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা অর্থপাচারে জড়িত। এতে বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েক ডজনেরও বেশি নেতা ও তাদের পরিবারের নাম উঠে এসেছে।
মোসাক ফনসেকার নথি বিশ্লেষণ করে ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) বলছে, অর্থ পাচারে বিশ্বের শতাধিক রাষ্ট্রপ্রধান, ২০০ দেশের রাজনীতিক, খেলোয়াড়, চলচ্চিত্র তারকাসহ ২ লাখের বেশি মানুষ জড়িত।
অর্থপাচারে জড়িত বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন নেতার নাম প্রকাশের জেড়ে হইচই শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। পানামা পেপারস নামে এ কেলেঙ্কারি ফাঁসের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন কমুউনিস্ট শাসিত চীনে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাপক নিয়ন্ত্রিত। দেশটির গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ দেখা যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া নিউজে শুধুমাত্র এ কেলেঙ্কারিতে নিউজিল্যান্ডের সমালোচনা করে ইংলিশ সংস্করণে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই সংবাদে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শ্যালক ও চীনের এলিট স্টান্ডিং কমিটির আরো দুই সদস্যের নাম জড়িত থাকলেও তা প্রকাশ করা হয়নি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিনা উইবো ও উইচ্যাটে অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে শত শত পোস্ট দেখা গেলেও সোমবার সকালের দিকে সেগুলো মুছে ফেলা হয়।
রাশিয়ার বিরোধীদলীয় সংবাদপত্র নোভায়া গ্যাজেটা দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক সহযোগীর নাম উঠে আসায় এ বিষয়ে সাত পৃষ্ঠার স্পেশাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এছাড়া ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিশেষ বিভাগও চালু করা হয়েছে। এতে দেশটির রাজনীতিক, কর্মকর্তা, আঞ্চলিক সরকার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সংবাদ ছেপেছে।
তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে। এ বিষয়ে কোনো সংবাদ পরিবেশন না করে পশ্চিমা গণমাধ্যমের সমালোচনায় মেতে উঠেছে সরকারি সংবাদমাধ্যম।
মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া অর্থ কেলেঙ্কারিতে সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সউদের নাম উঠে এলেও দেশটির প্রধান প্রধান সব সংবাদমাধ্যমের মূল পৃষ্ঠায় জায়গা পায়নি। এমনকি অনেক সংবাদ মাধ্যম এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের দুই আত্মীয়ের নাম মোসাকের ফাঁস হওয়া তথ্যে উঠে এসেছে। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ অ্যাজেন্সিতে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ দেখা যায়নি। আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ব্রিটেনে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করছেন এমন সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যমে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সিগমুনডুর ড্যাভিড গানলাওগসনের পদত্যাগের জোড়ালো দাবি উঠলেও তিনি অর্থপাচারে জড়িত নন উল্লেখ করে তা নাকচ করে দিয়েছেন।
এদিকে, বিশ্বনেতাদের বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে অর্থ কেলেঙ্কারির এ তথ্য ফাঁস হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতের রাজনীতিক, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ প্রভাবশালী অন্তত পাঁচশ ব্যক্তির নাম মোসাকের ফাঁস হওয়া তথ্যে উঠে এসেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, মোসাক ফনসেকার তালিকায় উঠে আসা অস্ট্রেলিয়ার সম্পদশালী এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্পেন সরকার আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাচারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস এ বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে।
এসআইএস/আরআইপি