ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাগো জবস

দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় ওয়াইপ্যাব

প্রকাশিত: ০৭:০৫ এএম, ১০ জুন ২০১৬

রাজধানীর অন্যতম একটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক করেছেন আয়শা সিদ্দিকা দোলা। স্নাতক শেষ করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে, তাও দু’বছরেরও বেশি। দোলা তার পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, কাজও করছেন পছন্দ অনুযায়ী। সবকিছু ঠিক আছে, তবু কোথায় যেন একটু শূন্যতা! সাফল্য অর্জন করতে হলে, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে নিজেকে আরো একটু দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন!

দোলা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হলো সেই জায়গা, যেখানে কোনো বিষয় সম্পর্কে থিউরি অনুযায়ী আদ্যোপান্ত জানা যায়। আর কর্মক্ষেত্র হলো সেই জায়গা, যেখানে সেই বিষয়ের কাজগুলো হাতে কলমে করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। কিন্তু এই দু’টির মাঝেও আমাদের আরো অনেক কিছু জানা প্রয়োজন। এই প্রতিযোগিতার যুগে যে একটু বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন সেই এগিয়ে থাকবে। তাই প্রাসঙ্গিক আরো নানা ধরণের বিষয়ে জ্ঞান থাকা এবং নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেটা একজনকে তার স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমি ওয়াইপ্যাব সম্পর্কে শুনলাম এবং একটু খোঁজ-খবর করে দেখলাম, তখন আমি আগ্রহী হয়ে উঠলাম এটার আয়োজনে অংশগ্রহণ করার জন্য। এরপর এর ক্যারিয়ার ভিত্তিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করে আমি খুবই আনন্দিত হলাম। কারণ আসলে আমরা যারা নতুন কর্ম জীবন শুরু করছি, তাদের এই ধরণের একটি প্ল্যাটফর্ম খুবই দরকার। যেখানে আনুসাঙ্গিক ওই বাড়তি দক্ষতাটুকু বাড়ানোর সুযোগ থাকে।’

ইয়াং প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়াইপ্যাব) এর যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালে। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যার মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ কর্মজীবীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। যেখানে তরুণরা চাকরির ক্ষেত্র অনুযায়ী বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন এবং বৃদ্ধি করতে পারবে, পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়াতে পারবে। যা শুধু তাদের নিজ দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্ব প্রতিযোগিতার বাজারেও টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

ওয়াইপ্যাব-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট, তারিফ মোহাম্মদ খান বলেন, ‘নতুন কর্মজীবীদের ক্যারিয়ার ও চাকরি বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষেই ওয়াইপ্যাব-এর যাত্রা। যার মূল লক্ষ কর্মজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া।’

‘আমরা নতুন কর্মজীবীদের এমন একটা প্ল্যাটফর্ম দিতে চাচ্ছি, যেখানে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ কর্মজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে, তাদের কাছ থেকে জানতে পারবে নানা অভিজ্ঞতা।’

Job

ওয়াইপ্যাব-এর এখন পর্যন্ত দু’টি ভিন্ন ধরণের ক্যারিয়ারভিত্তিক সিরিজ প্রোগ্রাম রয়েছে। যার মধ্যে একটি ‘ক্যারিয়ার মেনিয়া’, অন্যটি ‘বেসিক প্ল্যাটার ফর প্রোফেশনালস’। ‘ক্যারিয়ার মেনিয়া’ প্রোগ্রামটি একটু বড় পরিসরে হয়, যেখানে মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মজীবীরাই অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।

অন্যদিকে, ‘বেসিক প্ল্যাটার ফর প্রোফেশনালস’ মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য আয়োজন, যেখানে তাদেরকে ক্যারিয়ার, চাকরি ক্ষেত্র, কাজের পরিবেশ ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। ‘ক্যারিয়ার মেনিয়া’ কয়েক মাস পরপর হলেও, ‘বেসিক প্ল্যাটার ফর প্রোফেশনালস’ প্রায় প্রতি মাসে আয়োজনের চেষ্টা করে ওয়াইপ্যাব।

প্রতিষ্ঠাতা তারিফ বলেন, ‘আমরা খুবই গঠনমূলকভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। আর এই জন্যেই আমরা নানা পরিকল্পনা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে, ছোট-বড় বিভিন্ন ট্রেইনিং প্রোগ্রামের আয়োজন করছি। শুধু দেশেই নয়, আমরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’

ওয়াইপ্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক মোসরেফ রিফাত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শেষে প্রত্যেকেই কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছে, তবে সেই তার কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে পারবে এবং সফলতা অর্জন করবে, যে আর দশজনের মতো জ্ঞানের অধিকারী তো বটেই, বরং আরো বিশেষ কিছু জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী। কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ কিভাবে প্রত্যক্ষ এবং জয় করতে হয়, তা সেই অভিজ্ঞ কর্মজীবীই বলতে পারেন যিনি তা অর্জন করেছেন। তাই ওয়াইপ্যাব বিশ্বাস করে এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিফলন ঘটবে।’

‘আমরা প্রায়ই ক্যারিয়ার ভিত্তিক প্রোগ্রামের আয়োজন করি। শিগগিরিই আমদের আরো একটা প্রোগ্রাম ‘ক্যারিয়ার মেনিয়া (ভলিওম-২)’ অনুষ্ঠিত হবে।’- যোগ করেন তিনি।

তারিফ আরো বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো তরুণ কর্মজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। যার ফলে তারা শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও নিজেদের দক্ষতার উদাহরণ রাখতে পারে। প্রতিযোগিতায় শুধু টিকেই থেকে নয়, সফলতার সঙ্গে নিজেদের তথা বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারে।’

আরএস/পিআর