ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল

বিচার বিভাগ ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

বিগত ১৫ বছরে দেশে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরশাদুর রউফ বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল আদালত। কিন্তু বিগত স্বৈরশাসনের সময় সেখানে নির্যাতিত-অসহায় মানুষের ঠাঁই হয়নি। তখন সুবিচারের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছিল।’

‘বিগত ১৫ বছরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। বিচার বিভাগ অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল,’ যোগ করেন তিনি।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘তখন বিচারপ্রার্থী অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের আহাজারি আদালতের মনে আঁচর কাটতে পারেনি। ফলে বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিচার বিভাগ সেই অত্যাচারিত মানুষের পাশে ন্যায়ের ঝান্ডা নিয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতা আমাদের সবার। তখন বিচার বিভাগের রন্দ্রে রন্দ্রে দুর্নীতির সয়লাব বয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে বিচারের কারণবিহীন দীর্ঘসূত্রিতা ও উদ্দেশ্যমূলক অতি দ্রুত বিচার দুটিই বিচার বিভাগকে আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল। এটি তার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে একে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার কবর রচিত হয়েছিল।’

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের পর এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয় জানিয়ে আরশাদুর রউফ বলেন, ‘বিচার বিভাগ তার হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পায়। সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সুদৃঢ় ও ঐকান্তিক উদ্যোগে এবং প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সহযোগিতায় ও বর্তমান সরকারের সদিচ্ছায় মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নির্দেশনার আলোকে অতি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত হয় একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়।’

দুর্নীতিকে বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘দুর্নীতির এই বিষবাষ্প বিচারকার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আক্রান্ত করেছে। জাতি প্রত্যাশা করে বিচার বিভাগ সিন্ডিকেট মুক্ত হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক। দুর্নীতির প্রচলিত ধারণায় অর্থনৈতিক লেনদেনকে বোঝালেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক, অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ, ক্যানসারের চেয়েও মরণঘাতী। সুতরাং শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। আর রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের নিরীক্ষক বিচার বিভাগ। যখন অন্য দুই অঙ্গ এড়িয়ে যায়, ভুল করে, অন্যায় বা অবৈধ কোনো কিছু করে, তখন বিচার বিভাগ সাড়া দেয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করে।

এফএইচ/একিউএফ/এমএস