ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৩৬ এএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতের শুনানিতে এমন আর্জি জানান।

এর পর এ সংক্রান্ত বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীর শুনানির জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত। তিনি এ মামলায় একমাত্র আসামি।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আদালতে এদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শাইখ মাহাদী শুনানি করেন। অন্যদিকে জিয়াউল আহসানের পক্ষে তার বোন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজনিন নাহার শুনানি করেন।

জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর শুনানি শেষ করার পর আসামি পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের পর আমাকে সব এভিডেন্স দেওয়া হয়নি। তাই বাকি এভিডেন্স চাই। সুন্দরবনে ধারণ করা ভিডিও চিত্র আমাকে দেওয়া হয়নি। এসব ভিডিও চিত্র ২০২৪ সালে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো আমি ইউটিউবে দেখেছি।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনি তো তাহলেই দেখে ফেলেছেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, আমি দেখে থাকলেও আদালতের এভিডেন্স হিসেবে হাতে পায়নি।

এ পর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ফরমাল চার্জের সমস্ত এভিডেন্স দেওয়া হয়েছে। আমরা আজ কয়েকটি ভিডিও চিত্র আদালতের দাখিল করবো।

যে সমস্ত এভিডেন্সের বিষয়ে সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি দেবেন। কিন্তু যে সমস্ত এভিডেন্স আমরা আদালতেই জমা দেইনি সেটি কীভাবে তাকে দেব। আদালতে জমা দিয়ে তাকে দিয়ে দেব বলে জানান তিনি।

এর পর আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, এসমস্ত ডকুমেন্ট এবং ভিডিও নিয়ে আসামিকে দেখিয়ে তার সঙ্গে কথা বলবো। আদালত অনুমতি দিয়ে আগামীকাল ডিসচার্স আবেদন করার জন্য বলেছেন।

শুনানি শেষে বাইরে এসে আইনজীবী নাজনিন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগে বলা হয়েছে সুন্দরবনে অভিযান চালিয়েছে জিয়াউল আহসান। অজ্ঞাতপরিচয়ের ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এভিডেন্স আছে কি না। কারণ এই চার্জের মাধ্যমে আমাকে তো দোষারোপ করা হয়েছে। সুতরাং ফরমাল চার্জে যে কথাগুলো আছে সেগুলোর উত্তর তো আমার পাওয়া উচিত।

এসময় প্রসিকিউশন থেকে বলা হয়েছে, গাজীপুরের টঙ্গীতে এক রাতে তিন জনকে পরপর হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে দুই জনকে মারতে দুটি গুলি মেজর জিয়াউল হাসান নিজে করেছেন এমন একটা অভিযোগ আছে। এই ব্যাপারে আপনি কি জবাব দেবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী নাজনিন নাহার বলেন, এটা যখন সাক্ষী হবে তখন আপনাদের বুঝিয়ে দেবো যে এটা কীভাবে হয়েছে।

তিনি সম্প্রতি খুলনা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে পত্রিকা দেখেন লাশের পর লাশ নদীতে ডাম্প হয়েছে। লাশ সারা জায়গায়। মানুষ মরছে। তো সে হত্যা কারা হত্যা করেছে। একটা মানুষ যখন মারা যায় তখন সঙ্গে সঙ্গে সেটা জিয়াউল করেছে? এই কারণে আমি কোর্টে বলেছি যে, ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেশটা বেটাই চোর’।

তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলাটা বেটা হিসেবে চিহ্নিত করার পারসেপশনে বিচার হচ্ছে। এই পারসেপশনের বিচার থেকে বের হওয়ার জন্য আমার কিছু প্রশ্ন ছিল, সে প্রশ্নগুলো আমি করেছি স্পেসিফিক করার জন্য।

এফএইচ/এমআইএইচএস/এমএস