ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

হাদি হত্যা মামলায় ৭৭ জন সাক্ষী, ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১০:৫১ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণের জন্য ৭৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলাটিতে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ জfনুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম চার্জশিটটি ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেন।

চার্জশিটে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, নিহত হাদির ভাই ওমর বিন হাদি, চিকিৎসক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, আহত হাদিকে বহনকারী রিকশাচালক কামাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, জব্দতালিকা প্রস্তুতকারী ও রেকর্ডকারী পুলিশ সদস্য এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার্জশিটে ১৭ আসামির মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলসহ অন্যরা রয়েছেন।

এছাড়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদসহ ছয়জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।

পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক রুকোনুজ্জামান জানান, চার্জশিটের বিষয়ে কোনো আপত্তি আছে কি না তা জানাতে মামলার বাদীকে আগামী ১২ জানুয়ারি আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ নোটিশ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জারি করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।

ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করলে যা হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।###

এমডিএএ/এনএইচআর