নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল চ্যালেঞ্জের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ
এবার একইদিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করার বিধান চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে অনুষ্ঠানের জন্য ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।
ওই দিন হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই শুনানি শুনতে অপারগতা জানান।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে অনুষ্ঠানের জন্য ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন।
১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে।
রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারব্যবস্থা সংবিধানে নেই, তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকার ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন কমিশন দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা সংবিধানসম্মত নয়। সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১১ ধারা অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু গণভোটের বিধান সংবিধানেও নেই, আরপিওতেও নেই। এছাড়া সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কিছু করা যাবে না, তাই একই দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংবিধানসম্মত নয়।
রিটের আর্জিতে, গত ১১ ডিসেম্বর জারি করা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব একটি রিট আবেদন করেছিলেন, যা হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। বৃহত্তর স্বার্থে রিটটি প্রত্যাহার অর্থাৎ উত্থাপন না করার কথা আদালতে বলেন রিট আবেদনকারী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
এফএইচ/বিএ