চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক থাকছেন না টবি ক্যাডম্যান
টবি ক্যাডম্যান/ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যানের সঙ্গে সরকারের এক বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে; যা আর নবায়ন করা হয়নি। এর ফলে টবি ক্যাডম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পরামর্শক হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করছেন না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, লন্ডনভিত্তিক গার্নিকা ৩৭ ল’ ফার্মের যুগ্ম প্রধান টবি ক্যাডম্যানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে সরকারের সম্পাদিত এক বছরের চুক্তি গত ২৬ নভেম্বর শেষ হয়েছে; যা আর নবায়ন হয়নি। অর্থাৎ ২৬ নভেম্বর থেকে টবি ক্যাডম্যান পরামর্শক হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করছেন না।
এর আগে ২০২৪ সালের ২০ সভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরদিন ২১ নভেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে টবি ক্যাডম্যান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন
চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হলেন টবি ক্যাডম্যান
চিফ প্রসিকিউটর সবকিছু গুছিয়ে এনেছেন: টবি ক্যাডম্যান
পোস্টে টবি ক্যাডম্যান লিখেছিলেন, ‘এই ঘোষণা দিতে পেরে আমি আনন্দিত ও খুবই সম্মানিত বোধ করছি যে আমাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
এর পরপরই টবি ক্যাডম্যানের ল’ ফার্ম গার্নিকা ৩৭–এর এক্স হ্যান্ডল থেকে বিষয়টি নিয়ে তিনটি পোস্ট দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, এই চেম্বারের যুগ্ম প্রধান টবি ক্যাডম্যানকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের স্পেশাল প্রসিকিউটোরিয়াল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার ভূমিকা হবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত সব বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরকে পরামর্শ দেওয়া। এই ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং এটা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩–এর আলোকে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটা বস্তুত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও তাঁদের বিচার করার লক্ষ্যে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যখন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছিল, সেসময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান। তবে সেসময় তাকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তার বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে এসেছিলেন টবি ক্যাডম্যান।
২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় ওই সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে খবরে জানায়। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে টবি ক্যাডম্যানের ২ সেপ্টেম্বরের বৈঠক নিয়ে বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনে একটি দেশীয় ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
এফএইচ/ইএ