শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত: হাইকোর্টে বিএনপি প্রার্থীসহ ৪০ জনের জামিন
শেরপুরের শ্রীবরদীর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ আসামিকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাদের ছয় সপ্তাহের জন্য জামিন দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহদাত হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলী খানম।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জাগো নিউজকে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রেজাউল করিমকে কে হত্যা করেছে তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। মূলত এসব যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মাহমুদুল হকসহ ৪০ নেতাকর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।
এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করা হয় বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আরও পড়ুন
শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত
শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় মামলা, আসামি ৭৩৪
রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তার নিহতের ঘটনায় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে ঝিনাইগাতী থানায় ৭৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী মার্জিয়া। মামলায় ২৩৪ জনের নাম উল্লেখ ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়।
পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও সন্ধ্যার আগে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের দিকে এগোতে চাইলে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন।
এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এফএইচ/ইএ