রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি ১৫ এপ্রিল
মামলার শুনানিতে আসামিদের আদালতে নেওয়া হয়/ছবি আশিকুজ্জামান
জয় বাংলা ব্রিগেড নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুম মিটিংকে কেন্দ্র করে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে নতুন করে আগামী ১৫ এপ্রিল অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ ঠিক করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৫৯ জন পলাতক।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত জুম মিটিংয়ে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার করেন এবং এ লক্ষ্যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫৭৭ জন ওই জুম মিটিংয়ে অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে মত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের হোস্টিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই মিটিংয়ের ভয়েস রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে উৎখাতের জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে, যা রাষ্ট্রদ্রোহের উপাদান বহন করে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার ক্ষমতাবলে একই কর্মকর্তাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, এডভোকেট এএফএম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাথ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।
এমডিএএ/বিএ
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ হত্যাচেষ্টা মামলায় কৃষক লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কারাগারে
- ২ দুদক মহাপরিচালকের আইফোন-টাকা ছিনতাই: গ্রেফতার দুজন কারাগারে
- ৩ উত্তরায় চাপাতি দেখিয়ে ছিনতাই: একজন কারাদণ্ড, দুই খালাস
- ৪ ‘আমরা দোষী না হলে মুক্তি দিন’ প্রিজন ভ্যান থেকে সাবিনা আক্তার তুহিন
- ৫ বিটিআরসিতে ২৯ জনের অবৈধ নিয়োগ-পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়ে রুল