জুলাইয়ে সুজন হত্যা
শেখ হাসিনা-কামাল-কাদেরসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় পুলিশের গুলিতে ট্রাকচালক সুজন (২৫) নিহতের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এটিইউর পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ গত ১১ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে এলে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ৮ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতাদের ‘হুকুম, নির্দেশ, পরিকল্পনা ও উসকানিমূলক বক্তব্যে’ দেশজুড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করেন তারিকুজ্জামান রাজিব, আসিফ আহম্মেদ সরকার, সলিমউল্লাহ সলুসহ অন্যরা।
এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান প্রমুখ।
তবে এজাহারভুক্ত ৪৭ জনসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ৪৫০-৫০০ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মাহবুবুল আলম, আলম হোসেন, আরিফ, ফাহিম খান, রিয়াজ মাহমুদ, নজরুল ইসলাম, পীযূষ বাবু, মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ, দেলোয়ার ও বশির মোল্লা।
তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ জুন কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন। এর জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আন্দোলন দমনে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘নিধন’ কার্যক্রম চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই রাত ৮টার দিকে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন ট্রাকচালক সুজন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন সন্ধ্যায় সুজন তার ট্রাকটি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন লাওতলা পার্কিংয়ে রাখতে গিয়ে বছিলা তিন রাস্তার মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ওই রাতেই ১৫ হাজার টাকায় পিকআপ ভাড়া করে তার মরদেহ ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার সাচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রামকেশব গ্রামের জালাল হাওলাদার বাড়ির জামে মসজিদের পেছনে দাফন করা হয়।
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম শেখ হাসিনাসহ ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সেই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দিলো অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট।
এমডিএএ/এসএনআর
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিআইজি জলিলকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
- ২ কারখানা মালিকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, একজন কারাগারে
- ৩ মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে রিট
- ৪ আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক: আদালতে সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক
- ৫ হাসিনাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৭ জুনের মধ্যে জমার নির্দেশ