রিশা হত্যা : মামলা পরিচালনায় আগ্রহ হারিয়েছেন বাবা
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৪) হত্যার বিচার এক বছরেও শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে মামলাটির আদালত পরিবর্তন করা হয়। ফলে আইনি জটিলতায় মামলাটির বিচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ঝুলে গেছে।
আদালত পরিবর্তন হওয়ায় মামলা পরিচালনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন রিশার পরিবার। মামলা আর চালাবেন না বলেও মনস্থির করেছেন তার বাবা।
মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে ছিল। চার সাক্ষী শিশু হওয়ায় তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শিশু আদালতে নেয়ার আবেদন করে আসামিপক্ষ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি শিশু আদালতে বদলির আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। এখন থেকে মামলাটির বিচার কার্যক্রম ঢাকার শিশু আদালতে হবে।
রিশার বাবা রমজান আলী জাগো নিউজকে বলেন, মামলার কার্যক্রম ভালোভাবেই চলছিল। হঠাৎ করে মামলাটির আদালত পরিবর্তন হওয়ায় আমরা মামলা পরিচালনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। আমি আর মামলা চালাব না।
মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কেস ম্যানেজার ফাহমিদা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষী দিলেই মামলাটির সাক্ষীর কার্যক্রম ক্লোজ করে রায়ের পর্যায়ে যেত। কিন্তু হঠাৎ করে আদালত পরিবর্তন হওয়ায় মামলাটির বিচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ঝুলে গেল। এখন শিশু আদালতে মামলাটির বিচার হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশু আদালতে চার শিশুর সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলাটির সাক্ষীর কার্যক্রম শেষ হবে। এরপর রায়ের পর্যায়ে যাবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, আদালতের আদেশে মামলাটি শিশু আদালতে বদলি হয়েছে। এখন শিশু আদালতে মামলাটির বিচার হবে।
তিনি আরও বলেন, ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি শিশু আদালতে বদলির আবেদন করেছিলাম। মামলায় চার শিশু সাক্ষী রয়েছে। আইনানুযায়ী মামলার বিচার শিশু আদালতে হওয়া উচিত। কিন্তু অষ্টম অতিরিক্ত আদালত আইনের বাইরে তাদের সাক্ষ্য নিয়েছেন। মামলাটি আইনের বাইরে বিচার পরিচালনা হয়েছে। সব বিবেচনা করে মামলাটি শিশু আদালতে বিচার হওয়া দরকার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি শিশু আদালতে বদলি করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৫-৬ মাস আগে রিশা ও তার মা তানিয়া ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটে বৈশাখী টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে যান। এ সময় তার মা ওই দোকানের রসিদের রিসিভ কপিতে ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। ওই টেইলার্সের কর্মচারী ওবায়দুল রিসিভ কপি থেকে ফোন নম্বর নিয়ে রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত। রিশার মা এ বিষয়ে ওবায়দুলকে শাসান বলেও জানা যায়।
গত ২৪ আগস্ট রিশা ও তার বন্ধু মুনতারিফ রহমান রাফি পরীক্ষা শেষে কাকরাইল ওভার ব্রিজ পার হওয়ার সময় ওবায়দুল রিশাকে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। রিশা তা প্রত্যাখ্যান করলে ওবায়দুল তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রিশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট রিশা মারা যায়।
ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ২৪ আগস্ট রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন।
২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর অষ্টম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবুল কাশেম আসামি ওবায়দুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় ২৬ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছ।
জেএ/এমএআর/আরআইপি