খালেদার মামলায় অনাস্থা, মুন্নার জামিন বাতিল
ফাইল ছবি
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারকের প্রতি অনস্থার আবেদন দিয়েছেন দুই আসামি। এ সময় জিয়াউল ইসলাম মুন্নার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত অস্থায়ী ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল।
মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া মামলার মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাকে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়।
এ সময় খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধির আরেকটি আবেদনও করা হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে খালেদা জিয়াকে জেল কোড অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এবং জানিম বৃদ্ধি করেন।
অপরদিকে আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে মামলার কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলা চলবে বলে আদালত আদেশ দেন। যা আইনসম্মত হয়নি। এতে মামলা পরিচালনায় কোরাম সঙ্কট হবে। তাই আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। এবং দুই আসামির জামিন আবেদন করছি।
এদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মামলার যুক্তি উপস্থাপন করার আবেদন করেন। কাজল বলেন, আসামিপক্ষ যদি যুক্তি উপস্থাপন না করে তাহলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হোক।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ সময় মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আদালতের প্রতি অনাস্থার একটি টাইপ করা আবেদন দেন। তখন আদালত বলেন, আপনি কি আগেই জানতেন যে আবেদন নামঞ্জুর হবে? আপনি টাইপ করে কেন আনলেন। এ সময় মনিরুল ইসলামের আইনজীবীও লিখিত অনাস্থার আবেদন দেন।
তখন বিচারক পিপিকে বলেন, মুন্নার জামিনের বিষয় আপনি বলেন। পিপি বলেন, যেহেতু আসামির বিচারকের প্রতি আস্থা নেই। সেহেতু আবেদন নামঞ্জুর করেন। আদালত মুন্নার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার বিচার কার্যক্রম মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি রাখেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
অপর আসামিরা হলেন- খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর থেকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।
জেএ/এনডিএস/জেআইএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ পিএসসির প্রশ্নফাঁস: আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম কারাগারে
- ২ প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আযাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ
- ৩ হত্যা মামলায় কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রিপন
- ৪ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীরের পরিবারের ফ্ল্যাট-জমি জব্দ, হিসাব অবরুদ্ধ
- ৫ চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ড যেতে চান আসিফের সাবেক এপিএস, আদালতে প্রত্যাখ্যান