বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সব ম্যুরালের (ভাস্কর্য) ও নির্মাণাধীন ম্যুরালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদর দফতরের সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের অগ্রগতি এক মাসের মধ্য জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।
গত শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরে বঙ্গবন্ধুর একটি নির্মাণাধীন ভাস্কর্যে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কিন্তু ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা করার জন্য এর আগে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার সদর দফতরে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির তালিকায় আসে।
এ সংক্রান্ত রুলের শুনানির সময় এক আইনজীবীর করা সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৭ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন- আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ। তার সঙ্গে ছিলেন- মো. জগলুল কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
বশির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার প্রতীক। কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার মতো জঘন্যতম ঘটনা ঘটেছে। অথচ সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদে আছে, এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’
ম্যুরাল ও ভাস্কর্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানান তিনি।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একাত্তরের যে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেই ৭ মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়া এই মুজিববর্ষের মধ্যেই দেশের সব জেলা ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয় ওই আদেশে।
এদিকে বঙ্গবন্ধুরসহ দেশের সব ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে আরেকটি শুনানির জন্য আগামীকাল (৮ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ।
এর আগে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর এক রিটের শুনানি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে মঞ্চ পুনর্নির্মাণ করে সেখানে তার ভাস্কর্য স্থাপন এবং ৭ই মার্চকে ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস হিসেবে কেন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। আজ ওই রুলের শুনানিকালে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেন।
এমএইচ/এফআর/এমআরআর/এমকেএইচ