EN
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

তিতাসের এমডি-পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:৩৮ এএম, ০৩ মার্চ ২০২১

বুড়িগঙ্গা দূষণকারী ওয়াশিং প্ল্যান্টে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমানার অভিযোগ কেন আনা হবে না তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে বন্ধ করে দেয়া বুড়িগঙ্গা দূষণকারী ওয়াশিং প্ল্যান্টে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

সেই সঙ্গে বুড়িগঙ্গা দূষণকারী তিনটি ওয়াশিং প্ল্যান্টের মালিকের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত রিটে করা সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করীম।

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‌‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কেরানীগঞ্জ থানায় ১ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদফতর তিনটি মামলা করে। ওই মামলায় অপরাধ আমলযোগ্য হওয়ার পরও তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আসামিদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেয়নি। এদিকে আদালতের নির্দেশে বুড়িগঙ্গা দূষণকারী ৩০টি কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও পরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কোনো কোনো কারাখানা চালু রয়েছে। এতে বুড়িগঙ্গা সেই দূষণের শিকার হচ্ছেই।’

আইনজীবী মনজিল বলেন, ‘সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য। যদি তা না মানা হয়, তবে সে কর্তৃপক্ষ আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হবে। আদালতের আদেশ অমান্য করে তিতাস ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তাদের সংযোগ দিয়ে আদালত অবমাননা করেছে। ফলে সম্পূরক আবেদন করে আরজি জানালে আদালত তাদের ব্যাখা জানতে চেয়েছেন।’

বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে জনস্বার্থে করা এক রিট মামলার রুল শুনানির ধারাবাহিকতায় গত ৩ জানুয়ারি আদালত ঢাকার কেরানীগঞ্জের ৩০টি ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কারখানার বিরুদ্ধে মামলা করতে পরিবেশ অধিদফতরকে নির্দেশ দেন। ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালককে ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে বলা হয়।

সেই সঙ্গে কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গার পানিতে বা তীরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে তদারকির ব্যবস্থা করতে ঢাকার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

ওই ৩০টি ওয়াশিং প্ল্যান্টের মধ্যে বিএলটি ওয়াশিংয়ের মো. সোহেল, বিসমিল্লাহ ওয়াশিংয়ের মো. মাজুল ইসলাম ভূইয়া ও মেসার্স সানমুন টেক্সওয়াশিংয়ের মো. ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১৫(১)(২,১০,১২) ধারা অনুযায়ী গত ১ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করে পরিবেশ অধিদফতর।

মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ‘পরিবেশ ছাড়পত্র এবং ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ছাড়া কারখানায় ওয়াশিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নির্গমনের মাধ্যমে সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত বুড়িগঙ্গার দূষণ করার অপরাধ করেছেন এই তিন প্ল্যান্টের এই ব্যক্তিরা।’

৩০টির মধ্যে কেবল তিনটি ওয়াশিং প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে কেন মামলা হয়েছে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের আইনজীবী আমাতুল করীম বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছি, সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানাগুলোর মালিক একজন, কিন্তু বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ আরেকজনের নামে। এখন এগুলো যাচাই-বাছাই না করে মামলা করলে পরে দেখা যাবে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি বা মালিক শাস্তি না পেয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি পেয়েছেন।’

ঢাকার অংশে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট করে। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত রুল জারির পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা তীরে পুলিশ নিয়োগ, পর্যবেক্ষণ দল গঠন, শ্যামপুর এলাকার শিল্প বর্জ্য যাতে নদীতে ফেলা না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে এবং দূষণ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেন।

এফএইচ/এমএইচআর