ব্যবসায়ী মহসিনের লাইভে আত্মহত্যার ভিডিও সরানোর নির্দেশ
ব্যবসায়ী আবু মহসিন খানের (৫৮) ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার ঘটনার ভিডিও তার অ্যাকাউন্টসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশ পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে ওই ভিডিও সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ওই ভিডিওটি যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ও অন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অতি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে পদক্ষেপ জানিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করা হয়েছে। আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন।
এ সংক্রান্ত বিষয়টি আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিটিআরসির পক্ষে খন্দকার রেজা-ই রাকিব শুনানিতে ছিলেন।
এর আগে ফেসবুক লাইভে এসে আবু মহসিন খানের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন আজ হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ।
তিনি বলেন, ওই ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যে কারণে ভিডিও অবিলম্বে অপসারণ করা প্রয়োজন।
আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ বলেন, এর পর ফেসবুক-ইউটিউবসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই ভিডিও অপসারণ করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব, তথ্যসচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের প্রতি ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ওই ভিডিও অপসারণ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, তথ্যসচিব, বিটিআরসিসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কে নিজ ফ্ল্যাটে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন আবু মহসিন খান। এ ঘটনার ভিডিও দ্রুতই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই ওই বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবু মহসিন খান চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর ও মডেল মুশফিকা তিনার বাবা।
মহসিন খানের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া জানান, ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আবু মহসিন খান। রাত ৯টার দিকে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।
ফেসবুকে লাইভে এসে আত্মহত্যা করার আগে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন আবু মহসিন খান। এসময় তিনি জীবনের নানা হতাশা ও দুঃখের কথা তুলে ধরেন।
এরইমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন।
সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, আবু মহসিন খান একাই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলে টাইপ করা সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন তিনি। এছাড়া দরজার সামনে লেখা ছিল ‘মামা দরজা খোলা হাতলের হ্যান্ডেল চাপ দিয়ে ভিতরে ঢুক’। সুইসাইড নোটগুলো ধানমন্ডি ক্রাইম টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পর্কিত বিষয়গুলো সিআইডির কাছে রয়েছে।
এ আত্মহত্যার ঘটনায় মহসিন খানের পরিবারের এক সদস্য বুধবার রাতেই ধানমন্ডি থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে রাখা মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এফএইচ/এমকেআর/এমআরআর/এএসএম
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিসিআইসি কর্মকর্তার জমি-ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ
- ২ বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার যুবক রিমান্ডে
- ৩ জুলাই আন্দোলনকারীদের দমনে উসকানি দেন সালমান-আনিসুল
- ৪ গুলশানে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, বিচারের দাবি ব্লাস্টের
- ৫ বিচার বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চান প্রধান বিচারপতি