এমপি বাহারের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
হাইকোর্ট, ইনসেটে সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন নিয়ে সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিনের প্রচারণা না চালানোর নির্দেশনা কেন অবৈধ ও বে-আইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার (৮ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও কাজি জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন এমপির আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, এ রুল জারির ফলে আইন অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে কোনো বাধা নেই। এছাড়া আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
এবার কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। আ ক ম বাহাউদ্দিন কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য।
গত ৬ জুন আ ক ম বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছিলেন কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীর কাছে এই চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান, দলীয় কার্যালয় ও বিভিন্ন হল ব্যবহার করে মহানগর, আদর্শ সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা, প্রচার-প্রচারণার অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ আনা হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদরাসার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানোর।
এরপর নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা না চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।
আদেশের বিষয়ে সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, বাহাউদ্দিন বাহারকে সিটি কর্পোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর ২২ ধারায় নির্বাচন কমিশন একটি নোটিশ দেয়, তাতে নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এবং ২২ ধারা চ্যালেঞ্জ করে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করি। আদালত শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন। রুলে তাকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের নোটিশ কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে রুলে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আদালতে বলেছি, প্রচারণা অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা বে-আইনি। সংসদ সদস্য হলেও আমি এই এলাকার ভোটার। আমার দলের প্রার্থীকে আমি ভোট দিতে পারি। অথচ প্রচারণায় অংশ নিতে পারবো না। এটা কী ধরনের আইন। হ্যাঁ আমি যদি সরকারি চাকরিজীবী হতাম কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হতাম তাহলে পারতাম না।
হাইকোর্টের এই রুল জারির ফলে তিনি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন বলেও জানান এই আইনজীবী।
আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে পাঁচ মেয়র প্রার্থী, ২৭ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১০৬ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সিটিতে মোট ভোটার দুই লাখ ২৯ হাজার ৯১৮। তাদের মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২। পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬।
এফএইচ/জেডএইচ/জিকেএস