৪০ বছর পর রাজাকার প্রশ্ন তোলা যায় না : মাহমুদুল আমিন চৌধুরী
সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী ৪০ বছর পরে রাজাকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন। ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিরাজমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি জগলুল হায়দার আফ্রিক।
বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বলেন, রাজাকারদের নাগরিকত্ব বিষয়ে আইনে আছে একজন রাজাকার যদি থাকে তার সম্পদ তার ছেলে-মেয়েরা পাবে না। রাজাকারা তো চলে গেছে ৪০-৪২ বছর আগে। আমরা যেভাবে চলছি তা তো ভবিষ্যত অন্ধকার মনে হচ্ছে। বাবার শাস্তি ছেলে ভোগ করবে? ফৌজদারি আইনে একজনের শাস্তি আরেকজন ভোগ করতে পারে না। গণতান্তিক সরকারের এসব থাকার কথা নয়, জনগণের জন্য আইন হওয়ার কথা-এ বিষয়ে দেখা উচিত আমরা কোথায় যাচ্ছি?
তিনি বলেন, আমি গতকালের (সোমবারের) একটি পত্রিকায় কলাম পড়েছি। তাতে রাজাকারের সন্তানদের নাগরিকত্ব ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। শুনেছি এটি সংসদে পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় যে সংবাদ দেখেছি, তা খুবই বিপদজনক। যেকোনো নাগরিককের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারবে সরকার।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রায় লেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সময় নিয়ম ছিল হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকেরা এজলাসে বসে রায় ঘোষণা করবেন, আইনজীবীরা বসে শুনবেন, কোনো কিছু বাদ গেলে তো বলবেন। আর আপিল বিভাগ শুধু আদেশ অংশ ঘোষণা করতেন। পূর্ণাঙ্গ রায় আসবে পরে। তাই আমি করি না যে অবসরের পর রায় লেখা বে-আইনি হবে। তবে অবসরের পর রায় লিখতে হলে কোনোভাবেই আদেশ অংশ পরিবর্তন করা যাবে না। আদেশ অংশ পরিবর্তন করতে হলে রিভিউ করতে হবে।
বিচার বিভাগের সংস্কারে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন দিতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সঠিক রাস্তায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন। আপনাদের উচিত তাকে সহযোগিতা করা। বিচার বিভাগ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আপনারা বিচার বিভাগকে বাচান। দেশ রক্ষা করুন। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করুন।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাক আমরা চাই না। বিচার বিভাগ সম্পর্কে যখন ভালো কিছু শুনানি তখন মনটা ভরে যায়।
এটা না করে ছয় মাস বা এক বছর বা দেড় বছর পর যদি কেউ রাতের অন্ধকারে রায়ের আদেশের অংশ পরিবর্তন করে তবে সেটি হবে ফৌজদারি অপরাধ। আমরা তো সেটা করলাম, সেটি ঠিক হয়নি। এ কারণেই প্রধান বিচারপতি বলছেন এটা বে-আইনি। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রনয়ণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, এখন তো শুনি হাইকোর্টে কেউ কেউ প্রকাশ্য আদালতে রায় দেন না, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন, আগে এটা ছিল না, এখন মাসের পর মাস পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয় না, বিচারপ্রার্থীদর ভোগান্তি হয়, জজ সাহেব সম্বন্ধে নানা আলাপ-আলোচনা হয়। তিনি রায় লিখতে পারেন না বলেই প্রকাশ্যে রায় বা আদেশ দেন না। এখন নাকি রুল দেয়া নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র বিতর্ক হয়, সিনিয়র এজলাস থেকে নেমে যান, এটি দুঃখজনক-লজ্জাজনক। এ জন্য দায়ী আইনজীবীরা। কারণ আইনজীবীদের দায়িত্ব কাউকে খালাস করে দেয়া বা কাউকে শাস্তি দেয়া নয়। তাদের দায়িত্ব ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতকে সহায়তা করা।
বিচার বিভাগের সংস্কারে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন দিতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সঠিক রাস্তায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন। আপনাদের উচিত তাকে সহযোগিতা করা।
এফএইচ/বিএ
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর কারাগারে, গৃহকর্মীর স্বীকারোক্তি
- ২ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে বিএনপির ‘না’, আইনজীবীদের মতপার্থক্য
- ৩ গুমের মামলায় ব্যারিস্টার আরমানের জেরা ২৫ ফেব্রুয়ারি
- ৪ এনসিপির আইনজীবী সংগঠন থেকে নাজমুস সাকিবকে বহিষ্কার
- ৫ একেএম শহীদুল-জাবেদ পাটোয়ারীসহ ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ