ভিডিও EN
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

উসকানিমূলক পোস্ট না করার শর্তে জামিন পেলেন ঝুমন দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:৪৭ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০২২

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোনো ধরনের আপত্তিকর ও ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট না করার শর্তে জামিন পেয়েছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক হওয়া সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস।

রোববার (১৩ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল।

ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার দেওয়ার অভিযোগে গত ৩০ আগস্ট ঝুমন দাসকে হেফাজতে নেয় শাল্লা থানা পুলিশ। প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নবরত্ন মন্দিরের গেটে ঝোলানো মসজিদের দানবাক্সের একটি ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই ছবিটি শেয়ারের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত বছরের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে হেফাজত ইসলামের স্থানীয় সমর্থকরা ১৭ মার্চ স্থানীয় নোয়াগাঁওয়ে শতাধিক হিন্দু বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। যা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম। ঝুমন গ্রেফতার হওয়ার ছয় মাস পর গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান।

উসকানিমূলক স্ট্যাটাসের দায়ে ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপর এক মামলায় প্রায় সাত মাস কারাগারে থেকে জামিনে মুক্ত হন। জামিনে মুক্তির শেষ সময়ে এসে ফের গত ২৮ আগস্ট ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অপরাধে ৩০ আগস্ট দুপুরে শাল্লা থানা পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পোস্ট দেওয়ার বিষয় স্বীকার করলে রাতেই পুলিশ বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এফএইচ/এমআইএইচএস/এমএস