ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

দ্রুত মুক্তি পাবেন হাজী সেলিম, আশা আইনজীবীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২

দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে গত ৬ ডিসেম্বর জামিন দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে তার আদেশের কপি এখনো কারাগারে না পৌঁছানোর কারণে তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি। হাজী সেলিমের কারামুক্তিতে আরও সময় লাগতে পারে। তবে তার আইনজীবী আশা করছেন, দ্রুতই মুক্তি পাবেন এই সংসদ সদস্য।

সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম সাঈদ আহমেদ রাজা জাগো নিউজের কাছে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, হাজী সেলিমের জামিন হয়েছে গত ৬ ডিসেম্বর। কিন্তু জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি এখনো আমরা হাতে পাইনি। তাই আদেশের কপিটি কারাগারে যেতেও সময় লাগতে পারে। সেটা এক-দুদিনও হতে পারে, আবার বেশি সময়ও লাগতে পারে।

এই আইনজীবী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের কপি পৌঁছাতে নরমালি বেশকিছু সময় লাগে। এছাড়া বিচার সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ছিল। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বরের পর থেকে অবকাশে গেছে সুপ্রিম কোর্ট। সে হিসাবে একটু সময় লাগছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হাজী সেলিমের অর্ডারের কপি কারাগারে কমিউনিকেট করতে পারবো। এরপর উনি কারামুক্ত হবেন, কারণ ওনার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।

আরও পড়ুন: দেশে ফিরেছেন হাজী সেলিম

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ১০ বছরের দণ্ড বহাল রেখে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে জামিন দেন আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে ১০ বছর দণ্ডের বিরুদ্ধে হাজী সেলিমকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ আদেশের ফলে হাজী সেলিমের কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ।

৬ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

ওইদিন আদালতে হাজী সেলিমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ রাজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাকে দুই ধারায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাতিল করেন।

পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

সে অনুসারে শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।

রায়ে ১০ বছরের দণ্ড বহাল থাকলেও তিন বছরের সাজা থেকে খালাস পান হাজী সেলিম। একই সঙ্গে রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এরপর ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন হাজী সেলিম। আদালতের দণ্ড মাথায় নিয়ে হাজী সেলিম দেশ ছাড়ায় শুরু হয় বিতর্ক।

আরও পড়ুন: আত্মসমর্পণ করলেন হাজী সেলিম

এরপর গত ৫ মে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরেই লালবাগে তার নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দার জানাজায় অংশ নেন। পরে লালবাগ থেকে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন।

গত ২২ মে হাইকোর্টের রায় অনুসারে আত্মসমর্পণ করার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে কারাগারে ডিভিশন ও সুচিকিৎসার আবেদন জানান। বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরপর ২৪ মে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দণ্ডের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। একই সঙ্গে জামিন আবেদনও করেন হাজী সেলিম।

এফএইচ/ইএ/এএসএম