ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

আদালত অবমাননার অভিযোগ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:১৬ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৩

আদালত অবমাননার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে লিগ্যাল (আইনি) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তার হলেন- একই মন্ত্রণালয়ের দুই সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম ও মোহাম্মাদ মিসবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এ নোটিশ প্রেরণ করেন। কুড়িগ্রামের সাংবাদিক মো. আরিফুর রহমান রিগানের পক্ষে তিনি এ নোটিশ পাঠান।

এর আগে কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনের নামে জেলা প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে (১৪ মার্চ) অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে বাড়ি থেকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা।

এরপর তাকে হুমকি দিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তার কাছে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে মধ্যরাতেই জেলা হাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনা গণমাধ্যমগুলো তুলে ধরলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় পরদিন ঘটনাস্থলে যান রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যার ধারাবাহিকতায় সুলতানা পারভীনকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত, এনডিসি রাহাতুল ইসলামের তিনটি ইনক্রিমেন্ট কর্তন, আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে নিম্নধাপে নামিয়ে দেওয়া এবং রিন্টু বিকাশ চাকমাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও রিন্টু বিকাশ চাকমার বিষয়টির এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে অন্যদের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে এনডিসি রাহাতুল ইসলামকে বরিশাল ডিসি অফিসে পোস্টিং দেওয়া হয়।

তবে সেসব পোস্টিংয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সে নোটিশের জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারী মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও সাবেক এনডিসি রাহাতুল ইসলামকে বরিশাল ডিসি অফিসে দেওয়া পোস্টিং (সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট) কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে একই ফোজদারী মামলার অন্য তিন আসামিকে পোস্টিং না দেওয়ার বিষয়ে বিরত থাকতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতেও রুল জারি করেন আদালত।

এছাড়াও সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধানকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতেও রুল জারি করেন আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব রুল জারি করেন।

তবে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারী মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীনসহ চারজনকে বরখাস্ত না করে একজনকে পোস্টিংয়ের বৈধতা এবং অন্য তিনজনকে পোস্টিং না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্যাতনের শিকার বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম রিগান এ রিট দায়ের করেন।

২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ওই রিটের শুনানি নিয়ে চারজনের পোস্টিংয়ের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। অথচ একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রুলের কপি পাওয়ার পরেও উক্ত রুলকে অকার্য করার অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের পদোন্নতি-পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। যা আদালত অবমাননার শামিল বলে আইনি নোটিশে বলা হয়েছে।

তাই ওই নোটিশ পাওয়ার পর আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে অভিযুক্তদের পোস্টিং বাতিল করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফএইচ/এমআইএইচএস/জিকেএস